মুসলমান নারী উদ্যোক্তা লাঞ্ছনার ঘটনাকে হিন্দু নির্যাতন বলে প্রচার

ছবি: আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশে ‘ইসলামপন্থীদের’ দ্বারা এক হিন্দু নারী শিক্ষক হামলার শিকার হয়েছেন দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই শিক্ষক আসলে মুসলমান। আর তিনি শিক্ষক নন, উদ্যোক্তা।
কী দাবি করা হচ্ছে?
গতকাল থেকে বেশ কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইলে ৩৩ সেকেন্ডের এবং এক্সে ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশের সঙ্গে হেঁটে যাওয়ার পথে এক নারীকে লাথি মারছেন কয়েকজন পুরুষ। একজন পুলিশ তাদের আটকানোর চেষ্টা করছেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা— ‘বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন এক হিন্দু নারী শিক্ষিকা’।
ভারতভিত্তিক একটি ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লেখা হয়— ‘বাংলাদেশে এক হিন্দু নারী শিক্ষিকার ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।’
এক্সে ‘@vikasindiafirst’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আজ সোমবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ বার শেয়ার হয় ভিডিওটি, এতে ৫ হাজার ৬০০টি প্রতিক্রিয়া পড়ে। আরও কিছু পেজ ও আইডি থেকেও প্রায় একই ক্যাপশনে ভিডিওটি ছড়াতে দেখা যায়।
আসল ঘটনা কী?
অনুসন্ধান চালিয়ে ফেসবুকে একটি একাউন্টে একই ভিডিও পাওয়া যায়, যেখানে দাবি করা হয়, ওই নারী রাজবাড়ির একজন নারী উদ্যোক্তা।
এরপর ‘আজকের পত্রিকা’, ‘চ্যানেল ২৪’ ও ‘কালবেলা’য় ওই নারী উদ্যোক্তার হেনস্থা হওয়ার প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ওই নারীর যে ছবি দেওয়া হয়, তার সঙ্গে ভিডিওর নারীর ছবির হুবহু মিল রয়েছে।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী একজন মুসলমান। তার ওপর হামলা হয়েছিল তারই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীকে ছাঁটাই করা নিয়ে।
ওই নারীর অভিযোগ, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ না মিটিয়ে এক কর্মচারী কাজ ছেড়ে চলে গেলে তিনি রাজবাড়ি বাজার কল্যাণ সমিতিতে অভিযোগ দিয়েছিলেন। এরপর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতে থাকে। গত ২৯ আগস্ট তাকে লাঞ্ছিত করে তার প্রতিষ্ঠানের সাবেক ওই কর্মচারী ও তার সঙ্গীরা। তখন পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ি সদর থানায় নিয়ে গিয়েছিল।
এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ভিডিওতে যাকে হিন্দু শিক্ষক হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তিনি আসলে মুসলমান নারী।









