হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা আটকের দাবি মিথ্যা

ছবি: আগামীর সময়
গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালায়। এই রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই গত ২৯ জুলাই দিবাগত রাত থেকে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়— ‘এইমাত্র হবিগঞ্জে এনসিপির সদস্য সচিবসহ চারজনকে আটক করেছে ডিবি, নাশকতা অভিযোগে তাদেরকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ভিডিওটি হবিগঞ্জে এনসিপির কোনো নেতাকে আটকের দৃশ্য নয়; বরং চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের ভিডিওকে এ দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে।
মূলধারার গণমাধ্যম ও ভিডিওর প্রকৃত উৎস
ভিডিওটির সত্যতা অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘ডিবিসি নিউজ’-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৯ জুলাই প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার শিরোনাম ছিল— ‘চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার’। ডিবিসি নিউজের সেই ভিডিওর দৃশ্যগুলোর সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটির পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়।
অধিকতর প্রমাণের জন্য অনুসন্ধান চালালে মূলধারার আরেক শীর্ষ গণমাধ্যম ‘যমুনা টেলিভিশন’-এর ফেসবুক পেজে ২৯ জুলাই প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার ক্যাপশন ছিল— ‘চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেফতার’। যমুনা টিভির প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের সাথেও আলোচিত ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও প্রথম আলোর প্রতিবেদন
ভিডিওর সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড সার্চ করা হলে জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গত ২৯ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গত ২৯ জুলাই সকালে যশোর থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার সবাই শুটার।’
হবিগঞ্জের দাবির সত্যতা
এদিকে, হবিগঞ্জে এনসিপির সদস্য সচিবসহ চারজন সদস্যকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে—এমন দাবির সপক্ষে মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা পুলিশের কোনো অফিশিয়াল সূত্রে কোনো তথ্য বা প্রমাণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সার্বিক তথ্য ও গণমাধ্যমের ভিডিও বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘হবিগঞ্জে এনসিপির সদস্য সচিবসহ চারজনকে ডিবি আটক করেছে’ সংক্রান্ত দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তারের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক গল্প বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।







