ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নারীর ওপর বিএনপি নেতার হামলার দাবিটির সত্যতা কী

ছবি: আগামীর সময়
‘ফ্যামিলি কার্ড ভুয়া বলায় নারীর ওপর বিএনপি নেতার হামলা’— এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত ফরিদপুর জেলার একটি পারিবারিক কলহের দৃশ্য।
যেভাবে ছড়ানো হয়েছে গুজব
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে যে, সরকারি ফ্যামিলি কার্ডকে ভুয়া বলায় একজন নারী রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়েছেন। তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও এই একই ভিডিওটি ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়েছিল।
ভিডিওর প্রকৃত উৎস
রিভার্স ইমেজ সার্চ ও ফ্যাক্ট-চেক অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি ‘Muhammad Mahabub Mia’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ভিডিওটির একটি দীর্ঘ সংস্করণ পোস্ট করা হয়েছিল। যদিও বর্তমানে সেই পোস্টটি আর দেখা যাচ্ছে না, তবে সে সময়কার কমেন্ট বা মন্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ঘটনাটি ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট এলাকার।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওই ভিডিওর মূল পোস্টদাতা নিজেই মন্তব্যের ঘরে জানিয়েছিলেন, ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে নারীকে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে, তিনি ওই নারীর বাবা। অর্থাৎ এটি একটি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা, কোনো রাজনৈতিক হামলা নয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের বক্তব্য
জাতীয় ‘দৈনিক সকালের সময়’-এর ফরিদপুর জেলা মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ভিডিওটি স্থানীয় এক ব্যক্তি ধারণ করে তাকে পাঠিয়েছিলেন। মাহাবুব মিয়া ভুক্তভোগী নারী ও তার বাবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা কোনো মন্তব্য না করে সেখান থেকে চলে যান।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে, ‘বিএনপি নেতার হামলা’ হিসেবে প্রচারিত এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। মূলত ফরিদপুরের একটি পারিবারিক কলহের পুরনো ভিডিওকে বর্তমানে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।






