রামিসার পরিবারকে জামায়াত আমির কি ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন?

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার শিশু রামিসার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি সম্প্রতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিহত শিশুটির বাবার হাতে একটি চেক তুলে দিচ্ছেন। ছবিটির ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি বাস্তব ছবিকে কৃত্রিমভাবে সম্পাদনা করে এই বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।
প্রকৃত উৎস ও আসল ঘটনা
ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য মূলধারার সংবাদমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে এমন কোনো আর্থিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ কিংবা আমিরের ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টেও এ ধরনের কোনো চেক প্রদান বা বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়ার কোনো খবর বা ঘোষণার অস্তিত্ব মেলেনি।
রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে গত ২০ মে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে তিনি নিহত রামিসার পরিবারের সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ওই ভিডিওতে রামিসার বাবাকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনকে। পুরো ভিডিওটি নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করে কোথাও কোনো আর্থিক অনুদান বা চেক প্রদানের দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণ
ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ছবিটি এবং ভিডিওটির দৃশ্য পাশাপাশি তুলনা করলে দেখা যায় যে, ছবিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের পোশাক ও ঘরের ভেতরের পরিবেশ—সবই কর্নেল বাতেনের পোস্ট করা ওই ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। তবে এই ছবিতে আব্দুল বাতেনের পরনের পাঞ্জাবির সঙ্গে আলোচ্য ছবিতে শফিকুর রহমানের পরনের পাঞ্জাবির সাদৃশ্য রয়েছে। এ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সমবেদনা জানানোর ওই মূল ভিডিওর একটি ফ্রেমকে কেটে নেওয়া হয়েছে। পরে কোনো এডিটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভিডিওর আসল ব্যক্তির মুখের জায়গায় ডিজিটাল কারসাজিতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের মুখমণ্ডল এবং মাঝখানে একটি কাল্পনিক চেক যুক্ত করে ছবিটি বিকৃত করা হয়েছে। এ ছাড়াও গুগলের ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছবিটি গুগল এআই দ্বারা তৈরি অথবা এডিট করা হয়েছে।
তাছাড়া জামায়াতের আমিরের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রামিসার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি শোকবার্তা পোস্ট করা হলেও, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তার সরাসরি সাক্ষাতের কোনো তথ্য সেখানে উল্লেখ নেই।
উপরন্তু নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমান গত ২০ মে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে এরই মধ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আলোচিত ছবিটি সম্পূর্ণ সম্পাদিত এবং বিভ্রান্তিকর, যা একটি সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।







