গাড়ি ওভারটেক নিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর হামলার দাবিটির সত্যতা কি

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের উত্তর প্রদেশে গাড়ি ওভারটেক করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্মম হামলার ঘটনা ঘটেছে—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকে ভারতীয়দের আচরণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। ভিডিওটি ভারতের উত্তর প্রদেশের নয় এবং এর সাথে বাংলাদেশি কোনো পর্যটকের কোনো সম্পর্ক নেই; এটি মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতের ফরিদাবাদ এলাকায় দুই মুদি দোকানদারের মধ্যকার বাগ্বিতণ্ডা থামাতে গিয়ে এক প্রতিবেশী পরিবার হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা।
ছবির আসল উৎস ও প্রেক্ষাপট
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করা হলে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলে ‘Panjab Kesari haryana’ নামক একটি ভেরিফাইড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদনের দৃশ্য ও ঘটনার সাথে বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফরিদাবাদে মাদকাসক্তদের হামলায় একটি পরিবার নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয়েছে।
পরবর্তীতে ভারতীয় মূলধারার নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’ ও ‘দৈনিক ট্রিবিউন’-এ উক্ত ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গণমাধ্যমের সেই প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদের খেড়ি এলাকার ভারত কলোনিতে দুই মুদি দোকানদারের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ঘটে। সে সময় সবিতা নামের এক স্থানীয় নারীর স্বামী ও তাঁর ভাই তাঁদের বাসার সামনে এই ঝগড়া দেখে তা সমাধানের বা থামানোর চেষ্টা করতে যান। কিন্তু সেখানে তাঁদের ওপর আকস্মিক হামলা চালানো হয়। এটি দেখে সবিতা ও তাঁর সন্তানেরা হামলা আটকাতে এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও লাঠিসোটা নিয়ে বর্বর হামলা করা হয়।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও ভারতীয় গণমাধ্যমের রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, গাড়ি ওভারটেক করাকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর হামলার দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের ফরিদাবাদে দুই দোকানদারের মারামারি থামাতে গিয়ে এক প্রতিবেশী ভারতীয় পরিবারের আক্রান্ত হওয়ার পুরনো ও ভিন্ন একটি ভিডিওকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর হামলা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।






