সলিমুল্লাহ মেডিকেলের পুরনো ভিডিও নিয়ে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশে এক ইসলামপন্থী ব্যক্তি বন্দুক হাতে একটি মেডিকেল কলেজে ঢুকে ‘নারীদের শিক্ষা দেওয়া হারাম’ বলে চিৎকার করছেন— দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
তবে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবির কোনো সত্যতা বা বাস্তব ভিত্তি নেই। ভিডিওটির সঙ্গে এমন কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। মূলত ২০২৪ সালের পুরনো একটি ঘটনার ভিডিওকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন আন্তর্জাতিক বা সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
আসল ঘটনা ও গণমাধ্যমের প্রমাণ
ভিডিওটির প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে ‘যমুনা টিভি’র ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত ‘সলিমুল্লাহ মেডিকেলের ক্লাসে ঢুকে পড়া কে এই রহস্যময় যুবক?’ শিরোনামের একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনের ভিডিওর সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৃশ্য ও অডিওর হুবহু মিল রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের একটি লেকচার হলে ঘটেছিল। সেখানে এক যুবক লাঠি হাতে প্রবেশ করে মেঝে ও টেবিলে আঘাত করতে থাকেন এবং চিৎকার করেন। ভিডিওর শুরুতে তাকে ‘তোর প্রেমেতে অন্ধ হলাম কী দোষ দিবি তাতে’ গানটি গাইতেও শোনা যায়। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা জানান, ওই যুবক কাউকে সরাসরি আক্রমণ করেননি এবং তিনি মূলত মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
যুবকের পরিচয় ও পারিবারিক ইতিহাস
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আটক হওয়া ওই যুবকের নাম জুবায়ের আলী। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার পরিবারের দাবি, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে জুবায়েরকে প্রায়ই ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় একটি ব্যক্তিগত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তার এই মানসিক সমস্যা দেখা দেয়, যা মাঝেমধ্যে হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করত। সলিমুল্লাহ মেডিকেলের ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ থেকে পুলিশ তাকে আটক করে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করে।
সামগ্রিক তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ভাইরাল ভিডিওটিতে কোনো বন্দুকধারী বা ইসলামপন্থী ব্যক্তি ছিলেন না। সেখানে কোনো ধর্মীয় উগ্রবাদী স্লোগানও দেওয়া হয়নি। এটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে মানসিকভাবে অসুস্থ এক যুবকের লাঠি হাতে প্রবেশের ঘটনার ভিডিও, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বানোয়াট দাবিতে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে।




