রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে মূত্রত্যাগের দাবিটি সত্য নয়

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ একাধিক গুণী ব্যক্তির চিত্রিত গ্রাফিতির সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মূত্রত্যাগ করছেন— এমন একটি বিতর্কিত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয়; এটি এআই দিয়ে তৈরি করা একটি ভুয়া ও বিকৃত ছবি।
কী দাবি করা হচ্ছে?
ফেসবুকের ‘Elias Hossain ইলিয়াস হোসাইন’ নামের একটি পেজ থেকে গত ১২ অক্টোবর একটি ছবি পোস্ট করা হয়।পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়— ‘লোকটা রবীন্দ্রনাথের মুখে এভাবেই পিপিনুল করতে গেছিলো পুলিশ তাকে ধরে পানি ঢালায়ে ছবি তুলেছে আজকের ভিডিওতে দেখবেন বিস্তারিত চোখ রাখুন’।
শেয়ার করা ছবিটিতে দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতির সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মূত্রত্যাগ করছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ছবিটি ১৬২ বার শেয়ার হয় এবং ৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে। পরবর্তীতে আরও কিছু পেজ ও আইডি থেকেও একই ক্যাপশনে ছবিটি ছড়াতে দেখা যায়।
আসল ঘটনা কী?
ছবির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে এমন ছবির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমের ভিডিও প্রতিবেদনে প্রচারিত ছবির সামনের দিকে থাকা এক ব্যক্তির পরিহিত পোশাকের সাথে বাস্তব একটি ঘটনার মিল পাওয়া যায়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি মাখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে দেয়ালে লেগে থাকা কালি পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করেন এক রিকশাচালক। বাস্তব ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই রিকশাচালকের চেহারার সাথেই প্রচারিত ছবিতে থাকা ব্যক্তির অদ্ভুত মিল রয়েছে। মূলত বাস্তব ঘটনার এই প্রেক্ষাপটকে ভিত্তি করে বিকৃত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া ছবিটি এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী একাধিক টুলের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যায়, ছবিটি এআই (AI) দিয়ে তৈরি বা এডিট করার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এমনকি এআই দ্বারা নির্মিত ছবির ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক শনাক্তকরণ টুল ‘SynthID’ নিশ্চিত করেছে যে, ছবিটি ‘Google AI’ প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
অতএব, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ছবিটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গ্রাফিতিতে কালি মাখানো এবং পরবর্তীতে তা ধুয়ে ফেলার একটি প্রকৃত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুগল এআই (Google AI) দিয়ে বিকৃত ছবি তৈরি করে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।





