নরসিংদীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্টের ভুয়া তথ্য প্রচার

ছবি: আগামীর সময়
‘@pakistan_untold’ নামের একটি ভারত-ভিত্তিক এক্স অ্যাকাউন্ট আজ (৪ আগস্ট, ২০২৬) দাবি করে যে, ‘জিজিয়া’ (ঐতিহাসিকভাবে অমুসলিমদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি ও সুরক্ষার বিনিময়ে ধার্যকৃত ফি) দিতে অস্বীকার করায় মনি চক্রবর্তী নামে এক হিন্দু দোকানদারকে চরমপন্থীরা হত্যা করেছে।
তবে আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য। এটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের একটি পুরোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, যার সাথে জিজিয়া কর বা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনার সম্পর্ক নেই। সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অপরাধমূলক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভিত্তিহীন সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মূল ঘটনা ও প্রথম আলোর প্রতিবেদন
ছড়িয়ে পড়া পোস্টটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ চালানো হলে জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-তে গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত সংবাদের সাথে ঘটনাটির সূত্র মিল পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি রাতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চর সিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুরে শরৎ চক্রবর্তী মনি (৪০) নামে এক ব্যক্তি খুন হন। নিহতের স্ত্রী অন্তরা মুখার্জি সে সময় প্রথম আলোকে জানান, তাঁর স্বামী এলাকায় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। প্রাথমিক অবস্থায় স্বামীর ব্যবসায়িক অংশীদার ছাড়া অন্য কাউকে তাঁদের সন্দেহ হয়নি।
পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তদন্তকারীরা হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। নিহতের বাবাও প্রথম আলোকে জানান যে, গ্রেপ্তারকৃতরা স্থানীয়ভাবে মাদকাসক্ত ও অপরাধী হিসেবে পরিচিত এবং তিনি এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাকে শনাক্তের দাবি জানান।
ওসির বক্তব্য ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্পষ্টীকরণ
ঘটনাটির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইং থেকে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগীকে গুলি করতে দেখা গেছে এবং এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্যটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে নিহতের স্ত্রী অন্তরা মুখার্জি স্পষ্ট জানান—তাঁর স্বামীর কাছে কেউ কখনোই চাঁদা বা ‘জিজিয়া’ দাবি করেনি এবং এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁদের পুরো পরিবারের ধারণা, ঘটনাটি মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই ঘটেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল ৩ আগস্টও এই এক্স পেজটি থেকে ‘জিজিয়া’ সংক্রান্ত একটি পোস্ট করে ভিন্ন একটি ঘটনাকে বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, যা ‘আগামীর সময়’ ফ্যাক্ট-চেক করে ভুয়া প্রমাণিত করে।
সার্বিক তথ্য-প্রমাণ ও তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, এক্স অ্যাকাউন্টের প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। নরসিংদীর একটি পুরোনো জমি সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় রঙ দিয়ে এবং ‘জিজিয়া কর না দেওয়ায় হত্যা করা হচ্ছে’ বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।







