জামায়াতকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা মান্নার, বিএনপিকে সংযমের আহ্বান

ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার সমালোচনা করে তাদের ‘কাগুজে বাঘ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। একই সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বানও জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রতিপক্ষের উসকানিতে শারীরিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর জবাব।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলছিলেন, ‘বাংলাদেশে এখন দল বলতে তো বিএনপি। বিরোধী দল আছে কিছু?’
‘সংসদে বিরোধী দল আছে। কিন্তু সেই বিরোধী দল আবার খুব হিসাব করে পায়ে পায়ে হাঁটে। তারা অনেক জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বেড়ায়। আবার বাইরে গিয়ে বিরাট আন্দোলনের ভয়ও দেখায়। ওরা আসলে কাগুজে বাঘ,’ — যুক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও জানাচ্ছিলেন, জামায়াতের নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ছাড়তে চান না।
‘ওরা অনেকগুলো বছর নিজেদের করা অপরাধের কারণে যে জীবনযাপন করেছে, সেই জীবনে আর ফিরে যেতে চায় না। যারা অন্তত ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে জনগণের সামনে নিজেদের কথা বলতে পারেনি, এখন সংসদে বসে সব বিষয়ে কথা বলতে পারছে তারা। এই কমফর্টেবল জায়গা তারা ছাড়তে চাইবে না।’
মান্নার দাবি, জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় জেনেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠছে, তা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে বলে মনে করে দলটি। তিনি আরও বললেন, ‘জামায়াতের নেতারা যা মনে করে আমি তাই বললাম। আমার সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের খুব খাতির। আমি যতদিন জেলে ছিলাম, জামায়াতের নেতারা আমাকে সাহায্য করেছে। এখনো তাদের সঙ্গে কথা হয়। তারা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে পাঁচ বছর পরে আমরাই জিতব।’
বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সংযমের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ওরা একটা উল্টাপাল্টা কথা বলল, তাই তখন একটা ঘুষি দিয়ে দিলেন, সেটা করবেন না। আপনাকে ঘুষি দিতে মানুষ দেখবে। আর সেই ঘটনার ছবি যদি টেলিভিশনে প্রচার হয়, তাহলে একেকটি এলাকায় শত শত ভোট কমে যেতে পারে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, গায়ে হাত দিয়ে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন না। বরং প্রমাণ করুন, এত উসকানির পরও বিএনপি ধৈর্য ধরতে পারে।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মান্না বলছিলেন, ‘আমি চাই বা না চাই, জনাব তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছর এই দেশ চালাবেন।’ এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা করতালি দিলে তিনি যুক্ত করেন, ‘এত হাততালি দিচ্ছেন কেন? আমি চাইলেই কি, না চাইলেই কি? পাঁচ বছরের জন্য তো নির্বাচিত হয়েছেন।’
তার দাবি, ‘পাঁচ বছর যদি তিনি ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে পরের পাঁচ বছরেও তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না।’
তারেক রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মান্না আরও উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে তেলবাজি একটা বড় ব্যবসা। কিন্তু আমি যা বলছি, সেটা তেলের কথা নয়, বাস্তবতা। আমি তারেক রহমানকে যতটুকু চিনি এবং গত সাড়ে পাঁচ মাসে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে জনগণের সামনে তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’
মান্না বলছিলেন, ‘আগে রাজনীতিতে গালাগালিই ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। কিন্তু তারেক রহমান গালাগালির রাজনীতি করেন না। তার মা খালেদা জিয়াও গালাগালি করতেন না, তার বাবা জিয়াউর রহমানও করতেন না। অন্যকে গালাগালি না করেও জনপ্রিয় হওয়া যায়, সেটাই তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস।’
এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আপনারাও গালাগালি করবেন না। কেউ কিছু বললেই চট করে মারতে যাবেন না। এখন আপনারা ক্ষমতায় আছেন, তাই দায়িত্বও বেশি। সরকারে থাকা অবস্থায় রাগ দেখালে সাধারণ মানুষ নেতিবাচক বার্তা পায়।’
গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘গণতন্ত্রকে নিরাপদ ও শক্তিশালী করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। অনুষ্ঠানে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও।






