এ সপ্তাহের উদ্ভাবক
শুধু পরিচালকই নন

‘ডিপসি চ্যালেঞ্জার’ সাবমেরিন থেকে মিশন শেষে বের হচ্ছেন জেমস ক্যামেরন- ন্যাশনাল জিওগ্রাফি
‘টাইটানিক’ বা ‘অ্যাভাটার’-এর মতো মহাকাব্যিক সিনেমা তৈরি করা জেমস ক্যামেরনকে পৃথিবী এক নামে চেনে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে। কিন্তু এর বাইরে তিনি একজন সত্যিকারের স্বপ্নদ্রষ্টা, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক। সেলুলয়েডের ফিতায় কাল্পনিক জগৎ তৈরি করার পাশাপাশি বাস্তবে সমুদ্রের অতল রহস্য উন্মোচনে তার অবদান প্রযুক্তিবিশ্বকে চমকে দিয়েছে।
ক্যামেরনের উদ্ভাবনী যাত্রার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে সমুদ্রবিজ্ঞান। তিনি গল্প প্রকাশের মাধ্যমটি নিজে উদ্ভাবন করতে ভালোবাসেন। ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় জাদুকরী দৃশ্যায়ন তৈরির জন্য তিনি গভীর সমুদ্রে ব্যবহার উপযোগী বিশেষ ক্যামেরা ও রিমোটলি অপারেটেড ভেহিক্যাল (আরওভি) তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা রাখেন।
তবে প্রযুক্তিবিশ্বে তার উদ্ভাবনের বড় চমক আসে ২০১২ সালে। তিনি নিজেই ডিজাইন ও অর্থায়ন করেন ‘ডিপসি চ্যালেঞ্জার’ নামক একক ব্যক্তিবাহী সাবমার্সিবল বা সাবমেরিন। সমুদ্রের সবচেয়ে গভীর স্থান ‘মারিয়ানা ট্রেঞ্চ’-এর প্রায় ১১ কিলোমিটার গভীরে সফলভাবে পৌঁছানো প্রথম একক ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এ যাত্রার জন্য ব্যবহৃত উচ্চচাপ প্রতিরোধী আধুনিক মেটেরিয়াল, থ্রিডি ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং সুনির্দিষ্ট লাইটিং সিস্টেম তিনি নিজেই প্রকৌশলীদের সঙ্গে দিনরাত খেটে তৈরি করেছিলেন।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্রের প্রযুক্তিগত বিপ্লবেও তার ভূমিকা অনবদ্য। ‘অ্যাভাটার’ সিনেমার মাধ্যমে আধুনিক থ্রিডি ও মোশন-ক্যাপচার প্রযুক্তিকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা চলচ্চিত্রশিল্পকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। এর জন্য তিনি ও তার দল ‘ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম’ নামের থ্রিডি ক্যামেরা তৈরি করেন, যা মানুষের চোখের মতো স্বাভাবিকভাবে দৃশ্য ধারণ করতে পারে।




