বালকৃষ্ণের সিনেমাতে কাজ করাকে জীবনের ‘সবচেয়ে ঘৃণ্য অভিজ্ঞতা’ বললেন রাধিকা আপ্তে

বালকৃষ্ণ ও রাধিকা আপ্তে
কখনও রাখঢাক না রেখে স্পষ্ট কথা বলা, আবার কখনও নিজের শর্তে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য পরিচিত অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি বাংলা এবং দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা জগতেও কাজ করেছেন তিনি। তবে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি, গায়ের রঙের বৈষম্য এবং নায়ক ও নায়িকার বয়সের বিরাট ফারাক নিয়ে বরাবরই সোচ্চার হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ও বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তেলেগু সিনেমা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাধিকা।
সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নতুন সিরিজ ‘আক্কা’-র প্রচারে সহ-অভিনেত্রী কীর্তি সুরেশের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন রাধিকা আপ্তে। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র কোনটি?
উত্তরে অকপটে রাধিকা জানান, ‘আমি একটি তেলেগু সিনেমা করেছিলাম যেখানে আমাকে নিজের মামাকে বিয়ে করতে হয়েছিল। সেটিই ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও যন্ত্রণাদায়ক কাজ। শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্ত আর চরিত্রটার সব কিছুকেই আমি মনেপ্রাণে ঘৃণা করতাম।’
পাশে থাকা কীর্তি সুরেশ তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে দর্শকদের উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যা করেন যে, দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতিতে মামা বা মামাতো ভাইকে বিয়ে করার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু রাধিকা তাতে থামেননি।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হ্যাঁ, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা আমাকে বয়সে অনেক বড় এক অভিনেতার সঙ্গে রোম্যান্স করতে হয়েছিল। ভীষণভাবে পুরুষতান্ত্রিক একটা পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছিল। সিনেমাতে মাঝপথেই আমার চরিত্রটি মারা যায়। নায়ক আমাকে কাঁধে করে ছুড়ে ফেলে দিয়ে অ্যাকশন দৃশ্য করছিল। আমি তখন মনে মনে ভাবছিলাম, আমি ঠিক কখন মরব।’
যদিও সাক্ষাৎকারে রাধিকা সরাসরি কোনো সিনেমার নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বলা বিবরণ অনুযায়ী এটি ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বয়াপাটি শ্রীনু পরিচালিত তেলেগু হিট সিনেমা ‘লেজেন্ড’।
এই সিনেমাতে দক্ষিণী সুপারস্টার নন্দামুরি বালকৃষ্ণ-এর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন রাধিকা। সিনেমাটি যখন মুক্তি পায়, তখন অভিনেতা বালকৃষ্ণের বয়স ছিল ৫৪ বছর এবং রাধিকার বয়স ছিল মাত্র ২৯ বছর। অর্থাৎ তাদের দুজনের বয়সের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি।
২০১০ সালে রাম গোপাল বর্মার ‘রক্ত চরিত্র’ সিনেমার মাধ্যমে তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন রাধিকা। কিন্তু এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ২০১৫ সালে বালকৃষ্ণের সঙ্গেই ‘লায়ন’ সিনেমাতে কাজ করার পর থেকে তাকে আর কোনো দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতে দেখা যায়নি।
শুধু বয়সের ব্যবধান বা পুরুষতান্ত্রিকতাই নয়, এর আগে অন্য এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে গায়ের রঙের বৈষম্য নিয়েও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রাধিকা।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘শুরুর দিকে উত্তর ভারতীয় অভিনেত্রীদের দক্ষিণী ছবিতে কাস্ট করার মূল কারণই ছিল তাদের ফর্সা গায়ের রঙ। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক ও আপত্তিকর। যদি না খুব বিশেষ কোনো কারণ বা সুনির্দিষ্ট চরিত্রের তাগিদ থাকে, তবে আমার মনে হয় না আমার আর দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতে কাজ করা উচিত।’
বর্তমানে নিজের মতো করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন রাধিকা। তাকে সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ এবং ক্রাইম-থ্রিলার সিরিজ ‘আক্কা’-র মতো প্রজেক্টে দেখা যাচ্ছে।




