সান ফ্রান্সিসকোতে গোল্লাছুটের প্রথম নাটকের মঞ্চায়ন

‘অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়্যার নান’ নাটকের একটি দৃশ্য
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে নাট্যসংগঠন গোল্লাছুটের প্রথম প্রযোজনা ‘অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়্যার নান’-এর সফল মঞ্চায়ন হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের প্রচেষ্টা ও নিয়মিত মহড়ার পর প্রবাসী বাঙালি শিল্পীদের অংশগ্রহণে মঞ্চে আসে বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ রহস্যসাহিত্যিক আগাথা ক্রিস্টির কালজয়ী রহস্যনাটকটি। দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে নাটকটির অভিনয়, মঞ্চসজ্জা, আলোক পরিকল্পনা ও সামগ্রিক প্রযোজনার মান।
গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে অবস্থিত কাবারলি থিয়েটারে নাটকটির মঞ্চায়ন হয়। নির্দেশনায় ছিলেন হুসাইনুল আবেদিন সাইমুম। বে এরিয়ার প্রতিভাবান বাঙালি শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগে নির্মিত এ প্রযোজনা দেখতে থিয়েটার হলে উপস্থিত হন দর্শকরা। পুরো হলভর্তি দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন এবং মঞ্চায়ন শেষে শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রশংসা করেন।
নাটকের রহস্যময় আবহ, কাহিনির নাটকীয়তা এবং শিল্পীদের সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি দর্শকদের নজর কেড়েছে আলোক পরিকল্পনা, শব্দ সংযোজন, মঞ্চসজ্জা, পোশাক ও রূপসজ্জা। অভিনয় থেকে শুরু করে নেপথ্যের বিভিন্ন কাজের সমন্বয়ে প্রযোজনাটি দর্শকদের কাছে একটি উপভোগ্য মঞ্চ-অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
নিয়মিত থিয়েটারচর্চার পরিকল্পনা নিয়ে গড়ে ওঠা গোল্লাছুটের এটিই প্রথম প্রযোজনা। তবে দলটি শুধু একটি মঞ্চায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। প্রযোজনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ভিন্ন ভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতার মানুষকে একত্র করে পূর্ণাঙ্গ মঞ্চ প্রযোজনা নির্মাণের মধ্য দিয়ে গোল্লাছুট প্রবাসে বাংলা নাট্যচর্চার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। নিয়মিত মহড়া এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও দলের সদস্যদের নিষ্ঠা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত মঞ্চে প্রাণ পেয়েছে নাটকটি।
এ সফল মঞ্চায়নের পেছনে পরিচালক হুসাইনুল আবেদিন সাইমুম, জারিন টি. পুলাম, রাজা মিত্র, জো মিত্র ও মাজহার ইসলামসহ পুরো অভিনয়শিল্পী ও নেপথ্যকর্মী দলের অবদান রয়েছে। নাট্য প্রযোজনার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য অস্টিন থেকে ছুটে আসেন অভিনয়শিল্পী সাজু খাদেম। তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গোল্লাছুটের যাত্রা ও প্রযোজনার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নির্মাতা হুসাইনুল আবেদিন সাইমুম বলেন, ‘প্রবাসে যার যার পেশাগত ব্যস্ততার ভেতরে থিয়েটারে সময় দেওয়ার জন্য শিল্পী সংগ্রহ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রডাকশনটি করতে এসে দেখলাম, শিল্পমনা মানুষরা যেন এমন একটা উদ্যোগেরই অপেক্ষা করছিলেন। সে থেকেই গোল্লাছুটের জন্ম।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি বলব, সান ফ্রান্সিসকোয় গোল্লাছুটের এটি মূলত যাত্রা শুরু মাত্র। আমরা এই প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে বাংলাদেশকে ধারণ করে বয়ে নিয়ে যেতে চাই।’





