নিজেকে কনসার্টে ‘মৃত’ ঘোষণা করলেন দিলজিৎ

দিলজিৎ দোসাঞ্জ
গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ এখন কেবল পাঞ্জাবি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নয়, বরং বিশ্বমঞ্চের এক বড় নাম। গত ৩০ এপ্রিল কানাডার ক্যালগরিতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি জীবনের এক অতি বাস্তব এবং দার্শনিক সত্য তুলে ধরেন। হঠাৎই নিজেকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন তিনি।
পাঞ্জাবি ভাষায় দেওয়া সেই বক্তব্যে দিলজিৎ বলেছেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছি। মৃত্যুর প্রতি আমার কোনো ভয় নেই। গত ডিসেম্বরে আমি এই দেহ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এই শরীর ছাড়ার আগে আমাকে আরও কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পাঞ্জাবকে নিয়ে সবসময় কথা হয়েছে এবং আমার অবর্তমানেও পাঞ্জাবের জয়গান চলতে থাকবে। আমি আজ এই স্টেজে দাঁড়িয়ে আছি, আর এটাই আমার ঈশ্বর।’
দিলজিৎ তার বক্তব্যে কেবল দার্শনিক তত্ত্বই নয়, বরং জীবন যাপনের এক নতুন মন্ত্রের কথা বলেছেন। তিনি জানান, তিনি এখন তার জীবনে ভালোবাসা, সম্মান এবং ক্ষমা এই তিনটি গুণকে পূর্ণ মাত্রায় যোগ করার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, ‘কারো প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। আমি সবাইকে ভালোবাসি। ভালোবাসা, সম্মান এবং ক্ষমা এটাই এখন আমার জীবনের লক্ষ্য।’
কনসার্ট চলাকালীন কিছু দর্শককে পতাকা নিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখে দিলজিৎ সরাসরি তাদের উদ্দেশ্যে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জিমি ফ্যালনের শো-তে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিজের প্রচার করা ছিল না, বরং পাঞ্জাবকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা ছিল।
তিনি জানান, ‘জাতীয় মিডিয়া আমাদের নিয়ে কথা বলে না, তাই আমি যখন বড় কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে যাই, আমি নিজের গানের প্রচার না করে পাঞ্জাবকে নিয়ে কথা বলি।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, পাঞ্জাবের বন্যার সময়ও তার টিম সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
দিলজিতের এই স্পষ্টভাষী এবং আবেগঘন রূপ তার ভক্তদের কাছে তাকে আরও শ্রদ্ধেয় করে তুলেছে। বিদেশের মাটিতে পাঞ্জাবি সংস্কৃতির ধারক হিসেবে তার এই লড়াইকে নেটিজেনরা কুর্নিশ জানাচ্ছেন।




