আগামীর সময়ে মীর হেলাল : ব্যক্তির নয়, কর্মের সমালোচনা করেন

ছবি: আগামীর সময়
বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় আগামীর সময়ের চট্টগ্রাম অফিস ঘুরে গেলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। প্রত্যাশা করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা। বলেছেন, ব্যক্তির সমালোচনা নয়, সমালোচনা হোক কর্মের। একইসঙ্গে সংকট উত্তরণের পথ দেখানো সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব, স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রতিমন্ত্রী।
আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর আসকারদিঘীর পাড়ের কর্ণফুলী টাওয়ারে আগামীর সময়ের অফিসে আসেন প্রতিমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী। আগামীর সময়ের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহার প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে পুরো অফিস ঘুরে দেখান। তিনি আগামীর সময়ের অনলাইন ভার্সনও দেখেন। এসময় তিনি প্রকাশিত একটি নিউজের ভুল ধরিয়ে দেন। একইসঙ্গে আগামীর সময়ের ‘আলোচিত ১০’ কন্টেন্টের প্রশংসা করে বললেন, ‘এটি দেখলেই বোঝা যাবে পুরো সাইটে কী আছে। একইসঙ্গে পাঠক তার পছন্দের খবরও এর মধ্যে পেয়ে যাবেন।’
এরপর আগামীর সময়ের চট্টগ্রাম অফিসের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে বসেন তরুণ এ বিএনপি নেতা। প্রথমবার নির্বাচনের মাঠে নেমেই বাজিমাত করে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পাওয়া মীর হেলাল আগামীর সময়ের যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি পর্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
এসময় সাংবাদিকতা ও সংবাদকর্মীদের নিয়ে প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী, ‘আমার গায়ের রঙ সাদা নাকি কালো, আমি মোটা নাকি চিকন, আমার অবয়ব কীরকম এটা কিন্তু প্রাসঙ্গিক না। আমার সমালোচনা করতে হবে কর্মের। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য, একজন রাজনৈতিক কর্মী কিংবা একজন মন্ত্রীসভার সদস্য হিসেবে আমার কর্মের সমালোচনা করতে হবে। অর্থাৎ সমালোচনাটা যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়, এতটুকুই চাওয়া।’‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যারা পান, খুব বেশি লোক কিন্তু তাদের ভুল ধরিয়ে দেয় না। সংবাদমাধ্যমের কাজ হবে সমালোচনার সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া। একইসঙ্গে উত্তরণের উপায়ও বলে দিতে হবে। একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ কিংবা বিপক্ষে বলা, এমন কিছু হলে তো দেশের কোনো কাজেই আসবে না। এটা বরং দেশের জন্য নেগেটিভ হবে।’
মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন মীর হেলাল, ‘রিপোর্টিং হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ। এমন কোনো রিপোর্ট হওয়া উচিৎ নয়, যেটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিংবা একজন রাজনৈতিক কর্মীর অবস্থানকে ধ্বংস করে দেয়। আমার অসঙ্গতি তুলে ধরুন। কিন্তু অসত্য কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু কাম্য নয়,যেখানে আমাকে বাধ্য হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। সুতরাং লাস্ট শব্দ হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠতা।’
রাজনীতিবিদদের খারাপ কাজের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসাও সংবাদমাধ্যমে দেখতে চান বলে জানালেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল।
আগামীর সময়ের কাছে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে এ পর্বের সমাপ্তি টানেন প্রতিমন্ত্রী, ‘আমার যে প্রত্যাশা, এটা অনুযায়ী আপনারা অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আদর্শিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু নিরপেক্ষতা অবশ্যই আমরা কামনা করি। আদর্শিক ইস্যু কোনোসময় সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যেন প্রভাব না ফেলে।’




