বহির্নোঙরে দুই জাহাজে ধাক্কা : আটকা ২৮০০ কনটেইনার আমদানি পণ্য

ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি কনটেইনারবাহী জাহাজ। একটি বিদেশি 'মায়েরস্ক চট্টগ্রাম' আরেকটি দেশি 'এইচআর তুরাগ'। কনটেইনার জাহাজ দুটি সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে আসার শিডিউল ছিল। তার আগেই বন্দরের বহির্নোঙরে দুর্ঘটনায় পড়ল।
শুক্রবার সকালে দুটি জাহাজের ধাক্কায় জাহাজের মূল অংশে ক্ষতিগ্রস্তের খবর মিলেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং চলাচলের অনুমতি না পাওয়ায় দুটি জাহাজ এখনো বহির্নোঙরে অপেক্ষায় আছে। এতে আটকা পড়েছে বিভিন্ন আমদানিকারকের ২ হাজার ৮০০ একক আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার।
দেরিতে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দুটি কনটেইনার জাহাজের নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুটি জাহাজের একটি হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়েরস্কর। আরেকটি দেশি কোম্পানি আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর এইচ আর লাইন।
বহির্নোঙর থেকে জাহাজ দুটি চালিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে আনতে গত শুক্রবার গিয়েছিলেন বন্দরের দুই পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী এবং ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। জাহাজ দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে জাহাজ না এনে তারা বন্দর ভবনে ফিরে আসেন।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বললেন, ‘জাহাজের কাছে পৌঁছার আগেই দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। পরে জাহাজে উঠে দেখি দুটি জাহাজের মূল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। পানির নিচের অংশে জাহাজের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটি তদন্ত করে নিশ্চিত হতে হবে। এ অবস্থায় জাহাজ ছাড়াই আমরা বন্দর ভবনে ফিরে আসি।’
কারণ, এ রকম ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ বন্দর জেটিতে ঢুকাতে গেলে বন্দরের মোহনা অর্থাৎ সাগর থেকে বন্দরে প্রবেশমুখে বিপর্যয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ঘটনা তদন্তে সরকারের নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর মিলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কমিটি এখনো তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী।



