যৌন নিপীড়নের নতুন মামলায় নাম জড়াল পপ তারকা ডিডির

শন ডিডি কম্বস
মার্কিন পপ ও হিপ-হপ দুনিয়ার একসময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শন ‘ডিডি’ কম্বস-এর আইনি বিপর্যয় যেন কিছুতেই থামছে না। ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই একের পর এক ভয়ঙ্কর সব কেলেঙ্কারি সামনে আসছে। পতিতাবৃত্তি সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে সাজা কাটানো এই তারকার বিরুদ্ধে এবার প্রায় দুই দশক আগের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু অভিনেতাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে একটি নতুন দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এবিসি নিউজের বরাতে জানা গেছে, ২০০৭ সালের মে মাসে হলিউড হিলসে আয়োজিত বিনোদন জগতের একটি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে এই ঘটনা ঘটেছিল। মামলার বাদী জানান, নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারের সুবিধার আশায় তিনি ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে ডিডি কম্বস তাকে কাজের সুযোগ দেওয়ার এবং একটি নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করার কথা বলে একটি গোপন বা প্রাইভেট রুমে ডেকে নেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রুমে যাওয়ার পর কম্বস ওই তরুণকে একটি পানীয় পান করতে দেন। সেটি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ঝিমিয়ে পড়েন এবং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন। এরপরই কম্বস তার ওপর চড়াও হন এবং জোরপূর্বক অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। ওই তরুণ বারবার অস্বস্তি প্রকাশ এবং বাধা দেওয়া সত্ত্বেও কম্বস তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে যান। আদালতের নথিতে এই আচরণকে ‘সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার বাইরে এবং চরম আপত্তিকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় শুধু ডিডি কম্বসই নন, ভুক্তভোগী অভিনেতার তৎকালীন এজেন্টদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। বাদীর দাবি, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিনোদন জগতের বড় বড় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের মাঝে একা ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এজেন্টদের চরম গাফিলতি ছিল। তারা কোনো বৈধ অভিভাবক কিংবা তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতি নিশ্চিত না করেই তাকে সেখানে অরক্ষিত অবস্থায় রেখে দিয়েছিল।
বর্তমানে ৫০ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করা শন ডিডি কম্বসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মুখপাত্র জুডা এঞ্জেলমায়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও হাস্যকর একটি দাবি। কিছু আইনজীবীর উস্কানিতে স্রেফ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এই নতুন গল্প ফাঁদা হয়েছে। মিস্টার কম্বস জীবনে কোনো শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক কাউকেই কখনো যৌন নিপীড়ন করেননি। আগের মামলাগুলোর মতো এটিও আদালতে টিকবে না।’
দীর্ঘ আট সপ্তাহের রুদ্ধশ্বাস বিচার প্রক্রিয়ার পর গত বছর ডিডি কম্বস সেক্স ট্রাফিকিং ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো বড় অপরাধ থেকে খালাস পেলেও, পতিতাবৃত্তি সংক্রান্ত দুটি গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। মার্কিন আদালতের রায় অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার কারাগারেই থাকার কথা রয়েছে। তবে এর মাঝেই নতুন এই অপ্রাপ্তবয়স্ক নির্যাতনের মামলা হলিউড ও মার্কিন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে কম্বসের অপরাধ সাম্রাজ্যের অন্ধকার দিকটিকে আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এলো।










