২৯ বছরেই থেমে গেল টে কিথের সুরের সফর

টে কিথ
হিপ-হপ ও ট্র্যাপ মিউজিক জেনারের আধুনিক রূপরেখা যারা তৈরি করেছিলেন, ব্রাইটাভিয়াস চেম্বারস ওরফে টে কিথ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম পথিকৃৎ। ২০১৮ সালে যখন ট্র্যাভিস স্কটের ‘সিকো মোড’ গানটি বিশ্বজুড়ে চার্ট কাঁপিয়েছিল, তখন সেই গানের অদ্ভুত ড্রাম বিটস এবং সিগনেচার সাউন্ড এক নতুন মিউজিকাল ট্রেন্ডের জন্ম দেয়। ২০২৬ সালের এই ট্র্যাজিক জুন মাসে, সেই সুরের জাদুকরের আকস্মিক চলে যাওয়া মেমফিস র্যাপ এবং গ্লোবাল হিপ-হপ কমিউনিটিকে এক গভীর শূন্যতার মধ্যে ফেলে দিল।
টে কিথের সাফল্যের গল্পটি ছিল অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিজের শোবার ঘরে বসে সস্তা সফটওয়্যারে যে ছেলেটি বিটস বানানো শুরু করেছিল, সেই ছেলেটিই ড্রেক-এর মতো গ্লোবাল মেগাস্টারের প্রিয় প্রডিউসার হয়ে ওঠে। ‘ননস্টপ’ এবং ‘রিচ ফ্লেক্স’-এর মতো গানে তার তৈরি করা চটুল অথচ ভারী বেসলাইনের মিউজিক স্টাইলটি বিটাউনের হিপ-হপ কালচারে এক সিগনেচার টোন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
টে কিথ শুধু একজন মিউজিশিয়ান ছিলেন না, ছিলেন একজন দূরদর্শী ব্যবসায়ীও। ২০১৮ সালে নিজের শিকড় মেমফিস শহরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ড্রামাটাইজড মিউজিক গ্রুপ’। এর উদ্দেশ্য ছিল আন্ডারগ্রাউন্ডের নতুন ও প্রতিভাবান কৃষ্ণাঙ্গ র্যাপার ও প্রডিউসারদের বিশ্বমঞ্চে তুলে আনা। তার এই অনন্য উদ্যোগের কারণেই ২০২৪ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে এবং তার ম্যানেজারকে অনূর্ধ্ব-৩০ বছরের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান দেয়। ২০২৫ সালেও তিনি জ্যাক হার্লো ও ডোজা ক্যাটের মতো এ-লিস্টার তারকাদের সাথে ব্যাক-টু-ব্যাক হিট প্রজেক্ট উপহার দিচ্ছিলেন।
মাত্র ২৯ বছর বয়সে এই নক্ষত্রের পতন হিপ-হপ মিউজিকের একটি সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পুলিশি তদন্ত এখনও চলছে, তবে গ্লোবাল মিউজিক চার্টে তার তৈরি করা বিটস এবং সুরের কম্পন অনন্তকাল ধরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে।





