প্রযোজককে হত্যার হুমকি, ‘কালা হিরণ’ সিনেমা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছেই

সংগৃহীত ছবি
বলিউড ভাইজান সালমান খানের ১৯৯৮ সালের সেই কুখ্যাত কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা ভারতীয় বিনোদন এবং অপরাধ জগতের ইতিহাসের অন্যতম এক স্পর্শকাতর অধ্যায়। বছরের পর বছর ধরে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সালমান খানকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এই জ্বলন্ত আগুনের মাঝেই গত মাসে যখন প্রযোজক অমিত জনি ‘কালা হিরণ’ সিনেমার ফার্স্ট লুক এবং টিজার রিলিজ করেন, তখন থেকেই বিটাউনের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যদিও ছবিতে সরাসরি সালমান খানের নাম নেওয়া হয়নি, তবে সিনেমাটির মূল চরিত্র ‘আয়ান খান’ অভিনয়ে কাশিফ ইকবাল খানের লুক, পোশাক, এমনকি সালমানের সিগনেচার ফিরোজা পাথরের ব্রেসলেটটি হুবহু ব্যবহার করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে সালমান খানের আইনি দল দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করে, যেখানে অভিনেতার পার্সোনালিটি রাইটস বা ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ছবিটির প্রচার ও মুক্তি অবিলম্বে স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়। এর জবাবে প্রযোজক অমিত জনি প্রকাশ্য ক্যামেরার সামনে সালমানের পাঠানো আইনি নোটিশটি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন এবং দাবি করেন যে, তিনি সালমান খানের কোনো আইনি হুমকিতে ভয় পান না।
সিনেমাটিকে ঘিরে বিতর্কের জল এতটাই ঘোলা হয়েছে যে, বলিউডের সিনিয়র অভিনেতারা এখন এই প্রজেক্ট থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। সালমান খানের ‘ওয়ান্টেড’ ছবির সহ-অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব এই ছবিতে অভিনয় করার পর সম্প্রতি নিজেকে সিনেমাটি থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নিয়েছেন। তার দাবি, নির্মাতারা তাকে স্ক্রিপ্ট নিয়ে অন্ধকারে রেখেছিলেন এবং সালমানের চরিত্রটিকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে। একই অভিযোগ এনে শুটিংয়ের মাত্র দুই দিনের মাথায় ছবিটির মূল চরিত্র থেকে ওয়াকআউট করেন অভিনেতা সোনু মিশ্র। সোনুর দাবি, চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে প্রচারণার অংশ হিসেবে তাকে মিডিয়ার সামনে সালমান খানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে হবে, যা তার নৈতিকতাবিরোধী।
অমিত জনির দাবি অনুযায়ী, ছবিটির মূল উদ্দেশ্য কোনো তারকাকে কালিমালিপ্ত করা নয়, বরং বন্যপ্রাণী রক্ষায় রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের দীর্ঘ লড়াই এবং ত্যাগের ইতিহাসকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। তবে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডি-কোম্পানি এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির পর এবার সরাসরি ‘সালমান ভক্ত’-এর কাছ থেকে ৩ দিনের মধ্যে মার্ডারের আলটিমেটাম পাওয়ায় যোধপুরের উম্মেদ হেরিটেজে থাকা এই প্রযোজকের নিরাপত্তা এখন সম্পূর্ণ সুতার ওপর ঝুলছে।
চলচ্চিত্র মহলের একাংশের মতে, এই হুমকি এবং আইনি নোটিশ ছেঁড়ার ঘটনাগুলো সিনেমাটির প্রচারণার জন্য এক ধরণের হাইপ তৈরির সস্তা কৌশলও হতে পারে। তবে হুমকিদাতার ফোন রেকর্ডিং এবং রাজস্থান পুলিশের সাইবার সেলের তৎপরতা প্রমাণ করছে যে, জল এবার সত্যিই অনেক দূর গড়িয়েছে। ৩ দিনের এই ডেডলাইনের মধ্যে রাজস্থান পুলিশ অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পারে কি না, এবং দিল্লি হাইকোর্ট এই সিনেমার ভাগ্যে কী রায় দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





