বিষয় চলচ্চিত্র
ভেনিসে লি চ্যাং-ডংয়ের পসিবল লাভ
- চলচ্চিত্রকার হওয়ার আগে তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষক। মাঝপথে ২০০৩-০৪ সময়কালে ছিলেন নিজ দেশের সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী। এই দক্ষিণ কোরিয়ান মাস্টার ফিল্মমেকারের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্রের সংখ্যা হাতেগোনা

পসিবল লাভ
১৯৯৭ সালে প্রথম ফিচার ফিল্ম বানিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ান মাস্টার ফিল্মমেকার লি চ্যাং-ডং (কোরীয় উচ্চারণে ই ছাং-দোং)। সেই ‘গ্রিন ফিশ’ই জানান দিয়েছিল, পূর্ব এশীয় দেশটিতে যে চিন্তাশীল চলচ্চিত্রের একটি নতুন জোয়ার আসন্ন, তাতে তিনিও জুড়ে দেবেন নিজস্ব ঢেউ। এর আগের বছরই ‘কোরিয়ান নিউ ওয়েভ’ বা ‘নিউ কোরিয়ান সিনেমা’ হিসেবে পরিচিত সেই নবতরঙ্গ প্রথম উপস্থিতি জানান দিয়েছিল বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মাধ্যমে। সে সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ান চলচ্চিত্রে সেন্সরশিপের কড়াকড়ি শিথিল হলে একদল তরুণ চলচ্চিত্রকার নিজেদের সৃষ্টিশীলতার আগল খুলে দিয়েছিল। অবশ্য নামে ‘নিউ ওয়েভ’ থাকলেও চলচ্চিত্রবিশ্বের অন্যান্য ফিল্ম মুভমেন্ট বা নবতরঙ্গের মতো কোনো সম্মিলিত উদ্যোগ ছিল না এটি। বরং লি ও তার সমসাময়িকরা অনেকটাই যে যার মতো চলচ্চিত্র বানিয়েছেন। যেমন— আর্ট-হাউজ ঘরানার সিনেমায় কাঠামো ও আখ্যানের ওপর নিরীক্ষার জন্য খ্যাতি পেয়েছেন হং স্যাং-সু। কিম কি-দুকের চলচ্চিত্রে প্রকাশ পেয়েছে জীবনের অবর্ণনীয় নৃশংসতা। সচেতনভাবে সাজানো দৃশ্যপট, আকর্ষণীয় রঙের বৈপরীত্য আর নির্মম সহিংসতা ও তীব্র বিদ্রূপের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন পার্ক চ্যান-উক। বং জুন-হোর নির্মাণশৈলীতে বাস্তব জীবনের জটিলতাগুলো ফুটিয়ে তুলতে ডার্ক কমেডি, থ্রিলার ও স্যাটায়ারের মধ্যে বৈপরীত্যময় সুরের এক অনবদ্য মিশ্রণের দেখা মেলে। ধনী অভিজাত শ্রেণির জীবনদর্শন, সর্বস্তরের রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং দক্ষিণ কোরিয়ান সমাজের ঐতিহ্যবাহী যৌন রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে একই সঙ্গে ভীষণ সাহসী ও শৈল্পিক চলচ্চিত্র বানিয়েছেন ইম স্যাং-সু। এ তালিকায় আরও অনেকে রয়েছেন, যারা যথেষ্ট সংখ্যক ফিচার ফিল্ম নির্মাণ করেছেন এবং এখনো সৃষ্টিমুখর। (বলে রাখা ভালো, তাদের নামের কোরিয়ান উচ্চারণগুলো আরেকটু ভিন্ন হলেও আন্তর্জাতিকভাবে তারা ইংরেজি উচ্চারণেই বেশি পরিচিত।) তাদের প্রায় সমান সময়ের ক্যারিয়ার হলেও সেই তুলনায় লির চলচ্চিত্রের সংখ্যা খুবই কম। বাস্তবধর্মী এবং গভীরভাবে আবেগাত্মক চরিত্র বিশ্লেষণের জন্য খ্যাতিমান, ৭২ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্রকারের সপ্তম ফিচার ফিল্ম হিসেবে তৈরি হয়েছে ‘পসিবল লাভ’। চলতি ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়ছে ফিল্মটি।
একেবারেই বিপরীত ধরনের জীবনযাপন করা দুই দম্পতির বিজড়িত জীবনের কাহিনি
পরস্পর একেবারেই বিপরীত ধরনের জীবনযাপন করা দুই দম্পতির বিজড়িত জীবনের কাহিনি এটি। দ্য হলিউড রিপোর্টার-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কেলেঙ্কারি এবং এর প্রতিবাদে মুখর জনসাধারণের ওপর রাষ্ট্রের সহিংস দমনপীড়ন থেকে ‘পসিবল লাভ’-এর সূত্রপাত। এসব ঘটনাকে নিজের দেশ এবং সম্ভবত পুরো দুনিয়ার জন্য এক অন্ধকার ভবিষ্যতের পূর্বাভাস হিসেবে দেখেছিলেন লি। তার মতে, প্রযুক্তি ও সম্পদের পরিবর্তন শ্রমিকদের পেছনে ফেলে দেওয়ার এক অশনিসংকেত। সেই সংকেতকে এই চলচ্চিত্রে আধুনিক জীবনের ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে লি বলেছেন, “একসময় চলচ্চিত্রটির ভাবনা থেকে সরে এসেছিলাম। একজন শ্রমিকের জীবনকে একটি ড্রামা ফিল্মের মাধ্যমে তুলে ধরার পেছনে কী অর্থ থাকতে পারে, সে ব্যাপারে আমার মনে সন্দেহ জেগেছিল। কেননা, যারা কষ্টে ভুগছেন, এমন মানুষের জীবন নিয়ে যখন কথা ওঠে, নিজেকে সবসময়ই জিজ্ঞেস করি: ‘আমি কি এই কাহিনি দেখানোর অধিকার রাখি? কীভাবে আমার পক্ষে একে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব?’” অবশেষে সেসব প্রশ্নের উত্তর তিনি নিশ্চয়ই পেয়েছেন। সেজন্যই ১০ বছর যে চলচ্চিত্র তার চিন্তাজগতে বীজ হয়ে ছিল, সেটি অঙ্কুরিত হয়েছে ‘পসিবল লাভ’ শিরোনামে। ভেনিসে এর প্রিমিয়ার হবে আগামী রবিবার। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ অক্টোবর বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাওয়ার পর নেটফ্লিক্সের কল্যাণে সারা দুনিয়ার দর্শক ৬ নভেম্বর থেকে চলচ্চিত্রটি দেখতে পাবেন।





