ঘটনা সত্য

মহিমা মাকওয়ানা -ইনস্টাগ্রাম
মাত্র পাঁচ মাস বয়সে হারান বাবাকে। কিডনির সমস্যাজনিত কারণে মারা যাওয়া ভদ্রলোক ছিলেন পেশায় নির্মাণকর্মী। এরপর মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন মুম্বাইয়ের একচালা বাড়িতে। সেই মেয়েটি এখন বলিউডের উদীয়মান তারকা মহিমা মাকওয়ানা। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রোমান্টিক ওয়েব সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’তে অভিনেতা বিক্রান্ত মাসের সঙ্গে জুটি বেঁধে নজর কেড়েছেন তিনি।
বালিকা বয়স থেকেই শিশুশিল্পী হিসেবে ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছিলেন মহিমা। খুব কম বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়েছিল তার ওপর। বালিকা বয়সে দিনের বেলা স্কুলের পড়াশোনা শেষে ফেরার পথে প্রায় পুরো মুম্বাইয়ের রাস্তাঘাট বাসে চষে বেড়াতেন তিনি। নায়িকা হওয়ার ইচ্ছা ছিল না তার। পরিবারের খরচ জোগানো এবং মায়ের ইচ্ছাপূরণের জন্য বালিকা বয়স থেকেই মুম্বাইয়ের বিভিন্ন প্রান্তে অডিশন দিতে যেতেন। ‘মোহে রঙ দে’ হিন্দি ধারাবাহিকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় পদার্পণ করেন মহিমা। ‘বালিকা বধূ’সহ একাধিক ধারাবাহিকে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিজের উপার্জনে গাড়ি-বাড়ি কিনে ফেলেন তিনি। মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে মাস মিডিয়া নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন মহিমা। হিন্দি ধারাবাহিক ‘রিশতো কা চক্রব্যূহ’তে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। ‘বিগ বস’-এর সঞ্চালক বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তার। সেই সুবাদে অডিশন দিয়ে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ’ সিনেমায়। তেলুগু ভাষার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।
‘মুসাফির ক্যাফে’ সিরিজের সুবাদে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী মহিমা। এতে অভিনয় করে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে মুম্বাইয়ে দুটি বাড়ি তার। ৩০ লাখ রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি আছে। সব মিলিয়ে এখন তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১০ কোটি রুপির মতো।
এদিকে ‘মুসাফির ক্যাফে’র দ্বিতীয় সিজনের ঘোষণা দিয়েছে নেটফ্লিক্স। ফলে আবারও ফিরে আসছে চন্দর, সুধা ও প্রীতির গল্প। এ তিনটি চরিত্রে থাকছেন যথারীতি বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো ও মহিমা মাকওয়ানা।




