ভাইরালে বিশ্বাসী নন নুসরাত ফারিয়া

নুসরাত ফারিয়া
অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া অভিনয় থেকে শুরু করে গ্ল্যামার, উপস্থাপনা, গায়কি কিংবা আইটেম গানের নাচ— সবকিছুতেই বাংলাদেশ ও ভারত, উভয় দেশের বৃহত্তর বাঙালি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন পান্থ আফজাল
আপনার নতুন গান ‘লোকে বলে’র মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এরপর কোনো গান গেয়েছেন?
আমি এখনো ‘লোকে বলে’র মেজাজে রয়েছি। কিছুদিন আগে আমার জন্মদিন গেল। আমার কাছের মানুষজন সবাই আমাকে ‘লোকে বলে’ গানটি দিয়ে উইশ করেছে। এটা সত্যিই আমার জন্য পরম পাওয়া। ফলে আমি এখনো ‘লোকে বলে’ উপভোগ করছি। তাই আরও কিছুদিন যাক, তারপর নতুন গান নিয়ে ভাবব। আমার ধারণা, সামনের পূজায় একটা ধামাকা আসতে যাচ্ছে। সেই পর্যন্ত আমার গানের ভক্তদের একটু অপেক্ষায় থাকতে হবে।
‘ট্রাইব্যুনাল’ চলচ্চিত্রটি থেকে আপনি সরে এসেছেন কেন?
আসলে ‘ট্রাইব্যুনাল’ থেকে সরে আসার ক্রিটিক্যাল কোনো কারণ নেই। এই চলচ্চিত্রের কাহিনি আমার সঙ্গে মানানসই এবং চরিত্রটিও খুব মনে ধরেছিল। এখানে ব্যারিস্টার চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল আমার। বিদেশ ফেরত সেই তরুণী ব্যারিস্টার একটি মামলা নিয়ে কাজ করতে চায়। এ গল্পে অভিনয়ের জন্য আমি দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলাম। কিন্তু শুটিং শিডিউল ও অন্য কিছু জটিলতায় আমাদের ব্যাটে-বলে হয়নি। সেজন্য চলচ্চিত্রটি থেকে নিজেই সরে এসেছি।
নতুন চলচ্চিত্র ‘লজ্জা’র জন্য মিলিটারি ট্রেনিং নিয়েছেন, সে সম্পর্কে কিছু বলুন
হ্যাঁ, মিলিটারি ট্রেনিং করেছি। সেটির পরে আরও অনেক কিছুরই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটি যেহেতু একটু ভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্র, তাই নিজেকে সবভাবেই প্রস্তুত রাখছি। ‘লজ্জা’ আগামী বছরের ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা, সেভাবেই কাজ করছি। এর আগেও আমি পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছি; কিন্তু সেটি পুরোপুরি বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র ছিল। ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ শিরোনামের সেই চলচ্চিত্রে আমার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের জিৎ অভিনয় করেছিলেন। সেখানে অনেক ফান ছিল। কিন্তু ‘লজ্জা’ সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের চলচ্চিত্র। তা ছাড়া জাজ মাল্টিমিডিয়ার চলচ্চিত্র বরাবরই দর্শককে ভালো কিছু দেয়। তাই ‘লজ্জা’তেও আমার ভালো কিছু করার সুযোগ আছে। আশা করি, ভালো একটি চলচ্চিত্রই দেখতে পাবেন দর্শক।
অভিনয় করতে গিয়ে উচ্চতার কারণে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় আপনাকে?
আমার শারীরিক উচ্চতা খুব বেশি নয়। আমি খুবই টিনি-টাইনি-প্রিটি বাংলাদেশি মেয়ে, যার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি থেকে একটু বেশি। তাই বিভিন্ন শুটিং, অনুষ্ঠান বা শোতে একটু হিল পরে উচ্চতা বাড়িয়ে নিই! এজন্য ভালোমানের ও আরামদায়ক জুতা পাওয়া নিয়ে বেশ স্ট্রাগল করতে হয়। শুটিং সেটে আমাদের বিভিন্ন আঙ্গিক ও চরিত্রের প্রয়োজনে মানানসই পোশাক, চুল, জুতা আর লুক ক্যারি করতে হয়। এটাই বাস্তব!
এ নিয়ে মজার কোনো অভিজ্ঞতা?
২০১৬ সালে ‘প্রেমী ও প্রেমী’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে আমি বান্দরবানে ছিলাম। আমার সঙ্গে ছিলেন আরিফিন শুভ। জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় জাজ মাল্টিমিডিয়ার চলচ্চিত্র ছিল সেটি। পরের বছর মুক্তি পেয়েছে। সেই ‘প্রেমী ও প্রেমী’ ছিল আমার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বা তৃতীয় চলচ্চিত্র। বান্দরবানের একটি পাহাড়ে শুটিং চলছিল। আমার নায়ক (শুভ) ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার; আর আমি তো ছোটখাটো! তাই নায়কের কাছাকাছি উচ্চতায় আমাকে পৌঁছাতে হলে ৫ ইঞ্চি হিল পরতে হবে। প্রোডাকশনের একজন আমাকে একটু বেশি উচ্চতার জুতা এনে দিলেন। সেই জুতা পরেই শুটিং শেষ করেছিলাম।
আপনি যা করেন, তা-ই ভাইরাল।
আমি কখনো ভাইরালে বিশ্বাসী নই। সঠিকভাবে যত্ন নিয়ে কাজ করলে আর কাজটি মানসম্পন্ন হলে সেটি অবশ্যই মানুষের কাছে পৌঁছবে। হয়তো কোনোটা দ্রুত, আবার কোনোটা একটু সময় নিয়ে পৌঁছবে; তবে সেটি হবে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই।




