সিনেমা ফ্রি, তবুও দর্শক না এলে কী করব

ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ- ফেসবুক
প্রায় ছয় দশক ধরে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বিনোদন দিয়ে আসছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা হল। ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে মীর রাকিব হাসানের সঙ্গে স্মৃতির অলিন্দে ঘুরে এলেন মধুমিতার কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ
‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে মধুমিতা হল যুক্ত হলো কীভাবে?
রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এই আয়োজন। আয়োজক সিটি করপোরেশন থেকেই আমাকে প্রস্তাবটা দেওয়া হয়। মধুমিতার মতো পুরনো হল তো শহরে আর নেই। সানন্দে প্রস্তাবটা গ্রহণ করি।
আয়োজন নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতি কেমন?
খুব খুশি হয়েছি। কারণ এখানে শুধু সিনেমা দেখানো হয়নি, আমাদের চলচ্চিত্রের পুরনো মানুষকে সম্মান জানানো হয়েছে। বরেণ্যশিল্পী, কলাকুশলী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এসেছেন।
উৎসবে পুরনো সিনেমা দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন?
মোটামুটি ভালো। আমরা টিকিট রাখিনি, ফ্রি প্রদর্শনী হচ্ছে। ৬০, ৭০ ও ৮০-এর দশকের পুরনো সিনেমা দেখানো হচ্ছে। প্রতিদিন দুটি করে শো হচ্ছে। ফ্রি দেওয়ার পরও যদি মানুষ না আসে, তাহলে তো কিছু করার নেই।
তার মানে তেমন দর্শক হচ্ছে না?
প্রথম দিন দর্শকের উপস্থিতি দেখে ভালোই লেগেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আবদুস সালামকে মজা করে বলেছিলাম, ‘আপনি বলেন সিনেমা চলে গেছে, অথচ আজ তো হাউজফুল। পুরো প্রোগ্রাম সাংবাদিক আর মানুষে ফুল।’ উনি হেসেছেন। আমি বলেছি, ‘একসময় এমনই ছিল আমাদের হল।’ পুরনো সিনেমাগুলোয় কনটেন্ট ছিল, চরিত্র ছিল, গল্প ছিল। তাই সেগুলো এখনো মানুষ মনে রেখেছে। এখন ভালো কনটেন্টের অভাব। ভালো গল্প দরকার।
উৎসবে কোন পুরনো সিনেমা না থাকায় আপনার আক্ষেপ হয়েছে?
আমার আক্ষেপ আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ না থাকায়। আমি নিজেও সিনেমাটি দেখতে চাইতাম। এটা খুব ভালো মুভি। নতুন প্রজন্মের যারা সিনেমাটি দেখেনি, তাদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ হতে পারত। শুনেছি সিনেমাটি এফডিসির আর্কাইভে আছে। যদি আর্কাইভ থেকে অন্য সিনেমাগুলো আনা যায়, তাহলে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ কেন আনা গেল না— আমি এটা জানতে চাইব।
পুরনো সিনেমা নিয়ে ভবিষ্যতে নিয়মিত আয়োজন করার ইচ্ছা আছে?
অবশ্যই আছে। একটা কমিটি করে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা উচিত। যেমন সালমান শাহর সিনেমা নিয়ে এক সপ্তাহ, রাজ্জাকের সিনেমা নিয়ে এক সপ্তাহ, ববিতার সিনেমা নিয়ে এক সপ্তাহ, সুচন্দার সিনেমা নিয়ে এক সপ্তাহ করা যায়। অনেক হিট সিনেমা আছে। কাজী জহিরের সিনেমাগুলো নিয়েও এক সপ্তাহ করা যায়। ‘অবুঝ মন’সহ তার অনেক সিনেমা খুব ভালো। নতুন প্রজন্মকে বোঝানো দরকার, আমাদের আগের ইন্ডাস্ট্রি কতটা শক্তিশালী ছিল। তখনকার সিনেমাগুলো কতটা কনটেন্ট-অরিয়েন্টেড ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কারও সঙ্গে কথা হয়েছে?
সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম নিজে থেকে তার নাম্বার দিয়ে অফিসে যেতে বলেছেন। তিনি পরিস্থিতি জানতে চেয়েছেন। তাকে বলেছি, প্রেক্ষাগৃহে বাংলা সিনেমা যখন চলবে তখন তো চলবেই। পাশাপাশি বিদেশের ভালো সিনেমাও আসতে পারে। মূল কথা হলো, হলগুলো যেন খোলা থাকে। সিনেপ্লেক্স কিন্তু মূলত হলিউডের সিনেমা চালিয়ে টিকে আছে সারা বছর।
মধুমিতা মুভিজ দেশের অন্যতম বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছিল। অনেক সিনেমা করেছিলেন আপনারা।
‘উৎসর্গ’ ছিল আমাদের প্রথম চলচ্চিত্র। শাবানা, উজ্জ্বল ছিলেন। এরপর ‘আঁধারে আলো’, ‘নকল মানুষ’, ‘একমুঠো ভাত’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘নিশান’, ‘আগুন’, অলংকার, আয়না, শীষনাগ, বাগদাদের চোর, কোবরা। সবমিলিয়ে ৩০-৩৫টি হবে। যৌথ প্রযোজনায় ভারতের সঙ্গে করলাম ‘দূরদেশ’। পুরো সিনেমাটা কানাডায় হয়েছিল। এখনো মানুষ গায়— যেওনা সাথী। এরপর করলাম ‘মিস লংকা’। খুরশীদ আলম আমাকে বলেছিলেন, এ মুভির গানের মাধ্যমে তার পুনর্জন্ম হয়েছে। আগুন সিনেমার গান স্মরণ করুণ— ‘মাগো তোর কান্না আমি সইতে পারি না’। রাজ্জাক সাহেব মারা যাওয়ার পর তার স্মরণে মধুমিতায় সিনেমাটি চালিয়েছি। এর কিন্তু কোনো টিভি প্রদর্শন হয়নি। ইউটিউবেও পাবেন না।
মধুমিতা নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা কী?
গত দুই ঈদের মুভি ব্যবসা না করায় হলের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ভাবছি, হলটি শুধু সিনেমার জন্য না রেখে সেমিনার, মিটিং, জন্মদিন, বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং দেওয়া যায় কি না, কিছু আয় হবে। হল বন্ধ থাকলে দামি মেশিনগুলোরও সমস্যা হয়।






