এই অনুভূতি বোঝানোর মতো নয়

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ
নেপালে নেপালি ভাষার নাটক নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল রহমান
নেপালে মঞ্চনাটক নির্দেশনা দিয়ে এলেন। কবে থেকে কাজটি শুরু করেছিলেন?
আমরা এক মাস মহড়া করে এই নাটক মঞ্চে এনেছি। তবে ভাবনাটি আগে থেকেই ছিল। এর আগে নেপালের মঞ্চে গিয়ে অভিনয় করেছি। এবারই প্রথম নেপালে গিয়ে নেপালি ভাষার নাটক নির্দেশনা দিলাম। গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমান্ডুর সর্বনাম থিয়েটারে ‘আয়ো গোর্খালি’ নাটকটির মঞ্চায়ন হয়েছে। নেপালি ভাষায় এটি লিখেছেন মক চিউ ইয়ু। তিনিই এর প্রযোজক। এতে অভিনয় করেছেন নেপাল, আয়ারল্যান্ড ও হংকংয়ের শিল্পীরা।
কেমন অভিজ্ঞতা হলো?
এ অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো নয়। অসাধারণ ভালো লাগা কাজ করেছে। আমার জীবনে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা এটি। যে ভাষা জানি না, সেই ভাষায় নাটক নির্দেশনা দিতে গিয়ে দারুণ মুগ্ধতা কাজ করেছে। এটা কখনো ভুলব না। ‘আয়ো গোর্খালি’ নাটকটি গোর্খালি সৈনিকদের ইতিহাস অনুসরণ করে নির্মিত একটি প্রযোজনা। এতে তাদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা, আত্মত্যাগ এবং মানবতা, পরিচয়, বৈষম্য, ন্যায়বিচার ও শান্তি অন্বেষণের মতো বৃহত্তর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মালয়ান ইমার্জেন্সি এবং হংকং পর্যন্ত বিস্তৃত এই আখ্যান যুদ্ধকে শুধু সৈনিকদের গল্প হিসেবে উপস্থাপন করে না; বরং যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের দুর্ভোগ, পরিচয়ের সংকট এবং শান্তির সন্ধানকে সামনে নিয়ে আসে।
নাটকটি কি বাংলাদেশে মঞ্চায়ন হবে?
আমাদের আরণ্যক নাট্যদল থেকে কোনো উৎসব আয়োজন হলে নাটকটির প্রদর্শনী রাখার চেষ্টা করব। এ ছাড়া অন্য কেউ উদ্যোগ নিলে দেশে এর মঞ্চায়ন হতে পারে। তবে সেটি কবে হবে, এখনই বলা সম্ভব নয়। হংকং, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া এবং সবশেষে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় একাধিক উৎসবে ‘আয়ো গোর্খালি’র মঞ্চায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।
নাটকটি মঞ্চায়নের উপলক্ষ বা উদ্দেশ্য কী?
বিশেষ কোনো উপলক্ষ নয়। মক চিউ ইউ নেপালের একজন লেখক ও সংগঠক। সে আমার অনেক দিনের বন্ধু। তার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল গোর্খালি সৈনিকদের নিয়ে একটি কাজ করার। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং মালয়েশিয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন তিনি। অনেকবার পাণ্ডুলিপি পরিমার্জনের পর এর নির্দেশক হিসেবে যুক্ত হই আমি। এরপর নেপালে গিয়ে কাজটি করেছি। ভিন্ন ভাষায় ভিনদেশি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে দারুণ এক অভিজ্ঞতা হলো।
মঞ্চে নতুন কোনো কাজের পরিকল্পনা করছেন?
নতুন কোনো পরিকল্পনা এখনো করিনি। আরণ্যকের প্রযোজনায় ‘কম্পানি’ নাটকের মঞ্চায়ন হচ্ছে নিয়মিত। এটি লিখেছি ও নির্দেশনা দিয়েছি আমিই। প্রায় ১৮ মাস এর প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। এখন নতুন করে মঞ্চায়ন শুরু হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি, অর্থনৈতিক শোষণ এবং লুণ্ঠিত সম্পদ পাচারের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে ‘কম্পানি’র গল্প। নাটকটির মূল উপজীব্য ইউরোপীয় বণিকদের ভারতবর্ষে আগমন থেকে শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক উত্থান, বাংলার স্বাধীন নবাবি শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। এটি কিছুদিন চলুক, এর মধ্যে নতুন কিছু পরিকল্পনা করতে হবে।
সিনেমা কিংবা টেলিভিশনে কি নতুন কোনো কাজ করছেন?
একটি সিনেমায় কাজের ব্যাপারে কথা হয়েছে। খুব শিগগিরই শুটিং শুরু হবে। সিনেমার নাম এখনই বলছি না। সবকিছু ঠিকঠাক হোক। তখন এ বিষয়ে জানাতে পারব। তবে এটুকু বলা যায়, পরিচালক একজন লন্ডন প্রবাসী। শুটিং বাংলাদেশেই হবে। সিনেমার নাম ও বিস্তারিত তথ্য আরও কয়েক দিন পর চূড়ান্তভাবে জানা যাবে। এ ছাড়া আরও কিছু কাজের ব্যাপারে কথা হচ্ছে। সবকিছু চূড়ান্ত হোক।



