শুটিংয়ে যত পারি ফুটেজ খাই: রাশেদ মামুন অপু

রাশেদ মামুন অপু
ঢাকাই ওটিটি থেকে শুরু করে বড় পর্দার নির্মাতাদের কাছে পছন্দের অন্যতম ভিলেন বা ভার্সেটাইল অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু। তার সঙ্গে কথা বলেছেন পান্থ আফজাল
আপনাকে সম্প্রতি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ ‘কাজী ভাই’ চরিত্রে দেখা গেছে। ভক্তদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
দারুণ সাড়া পাচ্ছি। এক কথায়, দুর্দান্ত। যেখানেই যাচ্ছি, শুধু ‘কাজী ভাই, কাজী ভাই’ বলে ডাকছে সবাই। আমার ক্যারিয়ার তো শুরু নোমান রবিনের ‘সিটিবাস’ নাটকের তোতা মিয়া চরিত্রের মাধ্যমে। স্বল্পসময়ের উপস্থিতি সত্ত্বেও সে সময় দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল চরিত্রটি। এরপর অল্প কিছু কমেডি চরিত্র করলেও এখন আর তেমন করা হয় না। এরপর তো ওটিটি-সিনেমায় সিরিয়াস চরিত্রে ঢুকে গেছি। তবুও যখন কাজল আরেফিন অমির তুমুল জনপ্রিয় সিরিজ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ কাজী ভাই চরিত্রটির প্রস্তাব এলো, সানন্দে রাজি হয়ে গেছি। আমার অভিনীত পর্বগুলো প্ৰকাশ হওয়ার পর দর্শকের সাড়া পেয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। এই চরিত্র আর কতদূর যাবে, সেটি ব্যাচেলর টিম বলতে পারবে।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ কীভাবে যুক্ত হলেন? আপনার কি মনে হয়, নির্মাতা হিসেবে অমি মানসম্পন্ন কাজ করছেন?
কোনো নির্মাতা তার কাজে একজন অভিনেতাকে সাধারণত যেভাবে নিযুক্ত করেন, আমিও ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ সেভাবেই যুক্ত হয়েছি। কাজল আরেফিন অমি নিশ্চিতভাবেই মানসম্পন্ন কাজ করছেন। তার সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর শুটিংয়ে আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি হলো, যত পারি শুধু ফুটেজ খাই! কোনো কোনোদিন মাত্র তিন-চার মিনিটের শুটিং করা হয়।
বাকি সময় আমরা যে যার মতো সময় কাটাই। এর চেয়ে আরামদায়ক শুটিং আমি আর দেখিনি। এমন পরিবেশে শুটিং করার স্বপ্নই তো প্রতিটি অভিনয়শিল্পী দেখেন।
কাজী ভাইয়ের ভাষ্য কী?
বিয়ে হোক বা না হোক, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ কাজী ভাইকে ডাকলেই টাকা দিতে হবে! এটা একদম ফিক্সড। তবে সত্যি বলছি, এই চরিত্রে অভিনয় করে অনেক মজা পেয়েছি।
কখনো কখনো আমার অভিনীত দৃশ্য অকারণে কেটে দেওয়া হয়েছে। এসব দেখে নীরবে কেঁদেছি; তবে মনোবল হারাইনি
একই সঙ্গে অভিনয় ও নেতৃত্ব— দুটির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে চাপ অনুভব করেন?
অভিনয়শিল্পী সংঘের সঙ্গে আমি পাঁচ বছর ধরে জড়িত, মানে বিগত দুটি কমিটিতে রয়েছি। আগে ছিলাম অনুষ্ঠান সম্পাদক; এবার পদটা একটু ভারী হয়ে গেছে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। আসলে সাড়ে সাত বছর বয়স থেকেই বাবার হাত ধরে সংগঠনে যুক্ত হওয়া আমার। কাজ করেছি কর্মী হিসেবে। তাই সংগঠন বা নেতৃত্ব আমার জন্য নতুন বিষয় নয়। ফলে নেতৃত্ব কোনো চাপ সৃষ্টি করে না; বরং আমার কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে অভিনয় তো আমার প্রাণের বিষয়। অভিনয় ও নেতৃত্ব— দুটোই সমানতালে চলছে, চলবে।
একসময় এসে অভিনয় আপনাকে হতাশ করেছিল।
হ্যাঁ, হতাশ করেছিল; তবে হার মানিনি। আমি পড়াশোনা করেছি আইন নিয়ে। ইচ্ছা করলে আইনজীবী হয়েই থাকতে পারতাম; কিন্তু তা করিনি। পরে একটি এনজিওতে চাকরি করেছি। আবার অভিনয়ের জন্য বিদেশি সংস্থার চাকরি ছেড়েছি। একসময় অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরও হয়েছিলাম। অভিনয়ের জন্য আমাকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। কখনো কখনো আমার অভিনীত দৃশ্য অকারণে কেটে দেওয়া হয়েছে। এসব দেখে নীরবে কেঁদেছি; তবে মনোবল হারাইনি। এ ধরনের অভিজ্ঞতা এখন আর আমাকে আবেগতাড়িত করে না।
শুরু থেকেই নেতিবাচক চরিত্রে আগ্রহ ছিল কেন?
নেতিবাচক চরিত্রে অনেক বৈচিত্র্য থাকে। অভিনয় করে মজা পাওয়া যায়। অভিনয়টাকে বিশ্বাস করাতে হয়। ক্যারেক্টারের ভেতর অনেক অ্যাপ্রোচ থাকে। লেয়ার থাকে। এ জায়গাগুলোতে অভিনয় করতে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
নায়ক হওয়ার স্বপ্ন ছিল?
কোনোকালে, কোনোভাবে, কখনোই তা ছিল না। যখন থিয়েটার করেছি, তখন অভিনয়কে ভালোবেসেই করেছি। নায়ক, চরিত্রাভিনেতা বা খলনায়ক আমাকে আলাদাভাবে কখনো টানেনি। নায়ক হওয়ার আলাদা কোনো ফ্যাসিনেশনও ছিল না।





