আমাকে ভেঙে ফেলা সহজ নয়

আজমেরী হক বাঁধন
ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ঘটনার সময় তার ভাইয়ের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল। গত সোমবার রাতে মেস্ত্রে এলাকায় ভাই ও পরিবারের সঙ্গে পার্কে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফেসবুক লাইভে বিস্তারিত জানান এবং কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। ভিডিওতে কয়েকজনকে তার দিকে তেড়ে আসতে এবং ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে রয়েছেন বাঁধন।
‘এমনটা হবে কখনো ভাবিনি’
ইতালিতে গিয়ে এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, ভাবেননি বাঁধন। তিনি বললেন, ‘আমি এখানে এসেছি কাজের জন্য, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। যা ঘটেছে, সেটি শুধু আমাকে হেনস্তা করার ঘটনা নয়; আমার পরিবারের সদস্যরাও সেখানে ছিলেন। ঘটনার পর প্রথম যা আমার মাথায় এসেছে, সেটি হলো— আমি নিরাপদ তো? আমার ভাই, ভাবী এবং তাদের ছোট সন্তানটির ভবিষ্যৎ নিরাপদ তো?’ পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন ইতালীয় পুলিশ এসে বাঁধনকে সহায়তা করে।
‘মামলা করতে চাই’
অপ্রীতিকর ঘটনা হিসেবে বিষয়টি ভুলে যেতে নারাজ বাঁধন। বললেন, ‘আমার বক্তব্য, অবস্থান বা আমার রাজনৈতিক চিন্তার সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, আমাকে হেনস্তা করা যাবে। আমি তাই আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ যদি আমি চুপ করে যাই, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য কেউ একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।’
বাংলাদেশ দূতাবাসের যোগাযোগ
ঘটনার পর ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বললেন, ‘আমি মানসিকভাবে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বিদেশে এমন পরিস্থিতিতে পড়ার পর নিজের দেশের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া স্বাভাবিকভাবেই আমাকে কিছুটা সাহস দিয়েছে।’
জুলাই আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গ
বাঁধন জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটি নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। অভিনেত্রী বললেন, ‘মনে করি, একজন নাগরিক হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানানোর অধিকার আমার আছে। জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। এ ঘটনার পরও আমি ভেঙে পড়িনি; বরং আরও পরিষ্কারভাবে বুঝেছি, আমার অবস্থান নিয়ে আমাকে আরও দৃঢ় হতে হবে। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।’ অভিনেত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার প্রতি আমার সম্মান আছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর তার শাসনামলের সব সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমাকে একমত হতেই হবে— এমন কোনো কথা নেই। আমি ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় দেখি।’
বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ঘটনার পর বাংলাদেশ থেকে এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক মানুষ বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই ফোন করেছেন, বার্তা দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানিয়েছেন। বাঁধন বললেন, ‘একটি কঠিন মুহূর্তে যখন মনে হচ্ছিল আমি একা হয়ে যাচ্ছি, তখন দেশের মানুষের ভালোবাসা আমাকে শক্তি দিয়েছে। বুঝেছি, কিছু মানুষের আচরণ দিয়ে পুরো বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকে বিচার করা যায় না।’
‘আমার অস্ত্র আমার কাজ’
এই ঘটনার মধ্যেও বাঁধন নিজের কাজ নিয়ে ভাবছেন। অভিনেত্রী বললেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমার কাজকে থামিয়ে দিক— সেটি চাই না। আমার অস্ত্র আমার কাজ, কথা এবং সত্য বলার সাহস। আমি আহত হতে পারি, কষ্ট পেতে পারি, অপমানিত হতে পারি; কিন্তু আমার বিশ্বাসকে এত সহজে কেউ নড়িয়ে দিতে পারবে না।






