মাঝেমধ্যে নিজেকে দুর্গা মনে হয়: সিঁথি সাহা

সিঁথি সাহা, ফেসবুক
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় গান গেয়ে এলেন কণ্ঠশিল্পী সিঁথি সাহা। এবারের পূজা উদযাপন, নতুন গান ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
অস্ট্রেলিয়ায় কেমন অভিজ্ঞতা হলো?
খুব ভালো। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে শারদীয় দুর্গাপূজার দুটি অনুষ্ঠানে গান গেয়েছি। পরশু রাত ২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছেছি। পরদিন খুব একটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয়নি। রাতে ঢাকার বনানী মন্দিরে সংগীত পরিবেশন করেছি। পরদিন ভোরে উঠে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। সিরাজগঞ্জে আমাদের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে পূজা উদযাপন করব। আমার এবারের দুর্গোৎসব অস্ট্রেলিয়ায় দিয়ে শুরু, আর শেষ হচ্ছে সিরাজগঞ্জে।
গ্রামের বাড়ির পূজা উদযাপন নিয়ে বলুন।
আমাদের বাড়ির দুর্গাপূজা প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো। এখনো বেশ বড় আয়োজনে আমরা পূজা উদযাপন করি। বিজয়া দশমীতে বাড়ির বাইরে একটি বড় জায়গায় মেলা বসে, নানা রকম আয়োজন থাকে। আমার কাছে এই পূজা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এর সঙ্গে আমার শৈশব, পরিবার এবং বেড়ে ওঠার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রতি বছর পূজার সময় পরিবারের সবাই একসঙ্গে হতাম। ভোরবেলা ভাইবোনদের সঙ্গে ফুল তুলতে যেতাম। অঞ্জলি দেওয়ার জন্য ফুল সংগ্রহ করতাম, ফুলের মালা গাঁথতাম। তখন পূজায় এসব কাজের মধ্যে ছিল অনেক আনন্দ।
দুর্গাপূজায় আপনার
নতুন গান প্রকাশ হয়। এবার তো কিছু এলো
না...
হ্যাঁ, ঊষা
উত্থুপ দিদির সঙ্গে আমার একটি গান প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার নানা ব্যস্ততা ছিল, আমারও অন্যান্য কাজ ছিল হাতে। এ কারণে গানটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে পূজার পরপরই এটি বের করার পরিকল্পনা আছে। অবশ্য নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। সময় ও কাজের সুবিধা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া
হবে। এখন নিয়মিত গান প্রকাশের চেষ্টা করব। আমার একাধিক গান তৈরি আছে।
একসময় অভিনয় করেছেন। আবার অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা আছে?
অভিনয়ের প্রস্তাব এখনো পাই। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে; কিন্তু রাজি হইনি। তবে এখন ভাবছি, ভালো কোনো কাজ পেলে অবশ্যই অভিনয় করব। বর্তমানে ওটিটিতে ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। নতুন ধরনের গল্প ও চরিত্র নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই ভালো কোনো চিত্রনাট্য পেলে অভিনয় করতে চাই।
আপনার জীবনে দুর্গার প্রতিচ্ছবি কে?
আমার জীবনের আদর্শ আর আমার দুর্গা যদি বলি, তাহলে তিনি অবশ্যই আমার মা। আমার নিজেকে মাঝেমধ্যে দুর্গা মনে হয়! কারণ, জীবনে অনেক কিছু সামলে এগিয়ে যেতে হয়েছে। অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করে যেতে হয়েছে। আমার কাছে দুর্গা শুধু একটি প্রতিমা নন; তিনি শক্তির প্রতীক। এবার পূজায় মা দুর্গার কাছে ভাবছিলাম চাইব— মা, তুমি আমাকে ১০টা হাত দাও! কারণ, আমার জীবনে অনেক কিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়। কাজ করতে হয়, সন্তানের দেখভাল করতে হয়, নিজের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
একা মেয়েকে বড় করা এবং নিজের কাজের জগতে টিকে থাকা— দুটিই নিশ্চয়ই বড় দায়িত্ব।
আমার মেয়েকে নিয়ে একাই সংগ্রাম করছি। সন্তানকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে আছি এবং নিজের কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যে জগতে কাজ করি, সেখানে নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সবকিছু সামলে এগিয়ে যাওয়া সহজ নয়। কিন্তু দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ক্যানসার থেকে ফিরে আসা, জীবনের নানা প্রতিকূলতা সামলানো এবং মানসিক শক্তি ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়া- সবই জীবনের বড় অভিজ্ঞতা।




