ফিডব্যাকের ৫০ বছর, উদযাপনে বড় পরিকল্পনা

(বাঁ থেকে) দাঁড়িয়ে ইনাম এলাহী টন্টি, ফোয়াদ নাসের বাবু, লাবু রহমান, রায়হান আল হাসান, বসে আছেন রিয়াল আউয়াল ও মোহাম্মদ দানেশ
ফিডব্যাকের ৫০ বছর পূর্তি সামনে রেখে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ব্যান্ডটি। ‘ফিডব্যাক: ৫০ নট আউট’ শিরোনামের এই আয়োজন থেকে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন সদস্যরা। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান
জমেছে নতুন গান
ফিডব্যাকের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘এখন’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর অ্যালবাম প্রকাশ না হলেও নতুন গান তৈরি থেমে থাকেনি। ফোয়াদ নাসের বাবু বললেন, ‘এর মধ্যে চার-পাঁচটি গান তৈরি হয়ে গেছে। সেগুলোর সঙ্গে আরও গান যুক্ত করে আগামী বছর নতুন অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।’ গানগুলো মঞ্চে পরিবেশন করেছেন তারা। শ্রোতারাও সেগুলো গ্রহণ করেছেন।
পুরনো গানের নতুন উপস্থাপনা
ফিডব্যাকের জনপ্রিয় গানগুলো নতুনভাবে শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরতে চান সদস্যরা। সুবর্ণজয়ন্তীর মূল আয়োজনে অন্য ব্যান্ডগুলোকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে মাইলস, আর্ক, দলছুট ও আর্টসেলের সঙ্গে একই মঞ্চে গান করেছেন তারা। বাবু বললেন, ‘৫০ বছর পূর্তির আয়োজনের মূল লক্ষ্য হবে আমাদের দীর্ঘ সংগীতযাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে পুরনো গানগুলোর আবেদন তুলে ধরতে চাই।’ আগ্রহী শিল্পী ও ব্যান্ডের মাধ্যমে গানগুলো নতুনভাবে পরিবেশনের পরিকল্পনাও রয়েছে। সেসব পরিবেশনা ভিডিও কিংবা অনলাইনে প্রকাশ করা হতে পারে।
দেশের বাইরে কনসার্টের পরিকল্পনা
দেশের বাইরেও ফিডব্যাকের অনেক শ্রোতা রয়েছেন। তাদের কাছে ব্যান্ডটির গান স্কুল-কলেজজীবনের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সুবর্ণজয়ন্তীতে বিদেশের শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছাতে চান তারা। বাবু বললেন, ‘অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় অনুষ্ঠান আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে।’
পেছনে তাকালে
ফিডব্যাকের যাত্রা শুরু ১৯৭৭ সালে। প্রথম দিকে জনপ্রিয় ইংরেজি গান পরিবেশন করতেন তারা। ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বিদেশি অতিথিদের সামনে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে পেশাদার সংগীতযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরে জনসমক্ষে কনসার্ট করতে শুরু করেন তারা। ১৯৭৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে ফিডব্যাকের প্রথম পাবলিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদের ভাষা হয়ে আছে
ফিডব্যাকের কিছু গান সময় পেরিয়েও প্রাসঙ্গিক রয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিবাদে ব্যবহৃত হয় গানগুলো। লাবু রহমান বললেন, ‘আমাদের গান হয়তো সেই সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক ছিল, আবার এখনো কোনো কোনো পরিস্থিতিতে সেগুলো কাজ করছে। এটা সত্যিই দারুণ অনুভূতি। মাকসুদের লেখা প্রতিবাদী গান মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে— এটা আমাদের জন্য আনন্দের।’ তার মতে, গানের সাফল্য শুধু অ্যালবাম বিক্রি কিংবা কনসার্টে শ্রোতার উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়। গান মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও প্রতিবাদের প্রকাশ হয়ে উঠলে তার আবেদন আরও বিস্তৃত হয়।
ভাঙা-গড়ার মধ্যেও চলেছে পথচলা
ফিডব্যাকের ইতিহাসে মাকসুদুল হকের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার কণ্ঠের পাশাপাশি গানের কথাও ব্যান্ডটির জনপ্রিয়তায় ভূমিকা রেখেছে। সমাজ, সময় ও প্রতিবাদের ভাষা উঠে এসেছে তার লেখায়। বাবু বললেন, ‘মাকসুদের গানের কথার আলাদাই একটি শক্তি রয়েছে। বাংলা রকের গীতিকারদের মধ্যে আমি তাকে স্বতন্ত্র জায়গায় রাখি। তার লেখা গান আমাদের শ্রোতাদের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।’ ১৯৯৬ সালে ফিডব্যাক ছাড়ার পর মাকসুদ গড়ে তোলেন ‘মাকসুদ ও ঢাকা’। ব্যান্ডের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত কারণে এখন দেশে আসা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী বছরের অক্টোবরে সুবর্ণজয়ন্তীর মূল আয়োজনে তিনি যোগ দিতে পারবেন বলে আশা করছে ব্যান্ডটি। মাকসুদুল হক ছাড়াও পিয়ারু খান, এ জেড খান রোমেল, ওমর খালেদ রুমি ও মুসা রহমান বিভিন্ন সময়ে ব্যান্ডটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও স্থায়ী মঞ্চের প্রত্যাশা
একসময় রকসংগীতকে অপসংস্কৃতি হিসেবে দেখা হলেও এখন এটি দেশের সংগীতের পরিচিত ধারা। এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন বাবু। তবে ব্যান্ডগুলোর নিয়মিত পরিবেশনার জন্য স্থায়ী মঞ্চের অভাব রয়েছে। উপযুক্ত ভেন্যু না পাওয়ায় কনসার্ট আয়োজন কঠিন হয়, কখনো অনুষ্ঠান বাতিলও করতে হয়। বাবুর প্রত্যাশা, ব্যান্ডগুলোর জন্য স্থায়ী মঞ্চ গড়ে উঠবে। সেখানে শিল্পীরা নিয়মিত গান পরিবেশন করবেন, শ্রোতারাও সরাসরি গান শোনার সুযোগ পাবেন।




