কেন মানুষ ‘অফিস রোমান্স’ দেখছে?

ব্রেট গোল্ডস্টেইনের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন জেনিফার লোপেজ
ছুটির দিনে ওটিটির পর্দায় যদি পপকর্ন হাতে নিয়ে এমন কোনো সিনেমা দেখতে চান যাতে কোনো ভারী দর্শন নেই, কোনো জটিল থ্রিলার নেই, আছে কেবল একঝাঁক চেনা মুখের হাসি, হালকা প্রেম এবং চোখ ধাঁধানো গ্ল্যামার; তবে আপনার জন্য এই সপ্তাহের পারফেক্ট ওয়াচ হতে পারে জে-লো এবং ব্রেট গোল্ডস্টেইনের নতুন রমকম ‘অফিস রোমান্স’। সিনেমাটি ওজনে হালকা হলেও বিনোদনের দিক থেকে একশতে একশ। ২০০৯ সালের বিখ্যাত সিনেমা ‘দ্য প্রপোজাল’-এর মতো এই ছবির মূল আকর্ষণও এর চমৎকার কাস্টিং এবং চেনা রোমান্টিক গল্প।
বাস্তব জীবনে জেনডায়া ও টম হল্যান্ডের জুটি যেভাবে গ্লোবাল ফ্যানদের মন কেড়েছে, যেখানে মেয়েটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও গ্ল্যামারাস আর ছেলেটি কিছুটা লাজুক কিন্তু কিউট, এই সিনেমায় ঠিক সেই ভাইবটাই ব্যবহার করা হয়েছে। জেনিফার লোপেজ এখানে একজন এয়ারলাইন্সের পাওয়ারফুল সিইও এবং পাইলট। অন্যদিকে ব্রেট গোল্ডস্টেইন একজন পরিপাটি ব্রিটিশ আইনজীবী। যখন এক অফিসে রোমান্স নিষিদ্ধ থাকার পর এই দুই বিপরীত মেরুর মানুষের মধ্যে প্রেম জমে ওঠে, তখন স্ক্রিন কেমিস্ট্রি হয়ে ওঠে দেখার মতো। ৫৬ বছর বয়সেও জে-লো ক্যানভাসে যেভাবে জ্বলে উঠেছেন, তা এক কথায় জাদুকরী।
‘অফিস রোমান্স’ সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর পার্শ্ব চরিত্রগুলো। পরিচালক এখানে কেবল প্রধান জুটির ওপর ভরসা না করে অফিস চত্বরটিকে মজাদার করতে টেলিভিশনের বিখ্যাত সব কমেডি ও ড্রামা ফেসদের নিয়ে এসেছেন। ‘ভেপ’ খ্যাত টোনি হেলের কমিক টাইমিং এবং ‘গ্লোও’ খ্যাত বেটি গিলপিনের একটি বিশেষ সন্তান প্রসবের দৃশ্য সিনেমাটিতে হাসির রোল তুলেছে। এছাড়া ‘ডক্টর হু’ খ্যাত জোডি হুইটেকার এখানে ব্রেটের বোনের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন।
আর্ট ফিল্ম ক্রিটিকরা হয়তো এই সিনেমায় কোনো গভীর সামাজিক বার্তা বা অস্কার পাওয়ার মতো মেকিং খুঁজে পাবেন না। রিভিউয়ারদের ভাষায়, এটি হলো ‘এম্পটি ক্যালোরি’ বা ফাস্টফুডের মতো। আমরা যেভাবে জানি বার্গার-পাস্তায় পুষ্টি নেই কিন্তু খেতে দারুণ লাগে, এই সিনেমাটিও ঠিক তেমন। এর গল্প চেনা, পরিণতি জানা, কিন্তু এর কালার প্যালেট, কস্টিউম ডিজাইন এবং মিউজিক আপনাকে পুরো দুই ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে আঠার মতো আটকে রাখবে একচুলও বোর না করে।
দিনশেষে, ‘অফিস রোমান্স’ সিনেমাটি প্রমাণ করে যে রোমান্টিক কমেডির জেনারেশন যতই ওল্ড-স্কুল হোক না কেন, যদি কাস্টিং এবং পরিবেশনা নিখুঁত হয়, তবে দর্শক আজও প্রেক্ষাগৃহে বা ওটিটির পর্দায় এই মিষ্টি প্রেমের গল্পগুলো দেখতেই ভালোবাসে।






