অভিভাবকদের জন্য সাইকোলজিক্যাল হরর হতে যাচ্ছে ‘টয় স্টোরি-৫’

সংগৃহীত ছবি
আমাদের মনে যে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ১৯৯৫ সাল থেকে ‘ইউ হ্যাভ গট এ ফ্রেন্ড ইন মি’র নস্টালজিয়া বুনে আসছিল, সেই ‘টয় স্টোরি’-ই এখন তার পঞ্চম কিস্তিতে এসে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি। আগামী ১৯ জুন বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘টয় স্টোরি ৫’ কোনো সাধারণ বাচ্চার কার্টুন নয়, বরং এটি ২০২৬ সালের আধুনিক যুগের ডিজিটাল প্যারেন্টিং বা সন্তান লালন-পালনের এক নির্মম আয়না। যেখানে উডি বা বাজের চেয়েও বড় ভিলেন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে একটি ডিজিটাল ডিভাইস বা ট্যাবলেট, যার নাম ‘লিলিপ্যাড’।
প্রথম তিনটি পর্বে অ্যান্ডি তার খেলনাগুলোকে ভালোবাসত, যা ছিল শৈশবের এক পরম বাস্তব রূপ। কিন্তু চতুর্থ পর্বের পর বনির কাছে আসা খেলনাগুলো এবার এক নতুন যুগের মুখোমুখি। আট বছরের বনি বাস্তব জীবনে বন্ধুহীন, লাজুক এবং চরম একাকীত্বের শিকার। তাকে সমবয়সীদের সাথে যুক্ত করতে বাবা-মা যখন তাকে একটি ট্যাবলেট কিনে দেন, তখন শুরু হয় খেলনাদের অস্তিত্ব সংকট। পিক্সার খুব সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছে যে, আজকের দিনে শিশুদের আসল বন্ধু কোনো প্লাস্টিকের খেলনা বা মানুষ নয়, বরং হাতের ওই চারকোণা ডিজিটাল স্ক্রিন।
সিনেমার গল্পটি বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাথেও আশ্চর্যজনকভাবে মিলে গেছে। যুক্তরাজ্যে এই সপ্তাহেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার ঐতিহাসিক বিল আনা হয়েছে, যা গত বছর অস্ট্রেলিয়াও করেছে। ‘টয় স্টোরি ৫’ ঠিক এই রিয়েল-লাইফ প্যারেন্টিং ট্রমাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছে। বাবা-মায়েরা প্রতিনিয়ত এই দ্বন্দ্বে ভোগেন, সন্তানকে ইন্টারনেটের অন্ধকার দুনিয়া থেকে দূরে রাখবেন, নাকি তাকে সবার থেকে আলাদা করে একাকীত্বের দিকে ঠেলে দেবেন? এই দৃশ্যগুলো প্রেক্ষাগৃহে বসে থাকা সাধারণ বাবা-মায়েদের মনে তীব্র অপরাধবোধ তৈরি করতে পারে।
সিনেমার প্লটটি কিছুটা অগোছালো এবং ডিজনির ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে ডিভাইসগুলোকে পুরোপুরি খারাপ দেখানো সম্ভব হয়নি। তবে ছবির শেষে পিক্সার ব্যবহার করেছে পপ-কুইন টেইলর সুইফটের একটি বিশেষ মেলানকোলিক গান, যা দর্শকদের মনকে এক অদ্ভুত শূন্যতায় ভরিয়ে দেয়। সমালোচকদের মতে, পিক্সার এবার তাদের খেলনা ও রূপকের দুনিয়া থেকে বেরিয়ে এসে পুরোপুরি মানুষের বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য প্রস্তুত।
যারা ভাবছেন বাচ্চাদের নিয়ে থিয়েটারে গিয়ে পপকর্ন খেতে খেতে কেবলই হাসাহাসি করবেন, তারা ‘টয় স্টোরি ৫’ দেখার সময় একটু সাবধান থাকবেন। কারণ এই ছবি বাচ্চাদের যতটা না হাসাবে, তার চেয়ে অনেক বেশি ভাবাবে তাদের পেছনে বসে থাকা বাবা-মায়েদের।





