ব্লেক লাইভলির সঙ্গে আইনি লড়াই নিয়ে ২ বছর পর মুখ খুললেন বালডোনি

ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি
হলিউডের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত আইনি লড়াই অবশেষে শেষের দিকে, তবে এর পেছনে রেখে গেছে এক দীর্ঘ মানসিক ক্ষত। ২০২৪ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’-এর সেট থেকে শুরু হওয়া পরিচালক-অভিনেতা জাস্টিন বালডোনি এবং মেগা স্টার ব্লেক লাইভলির মধ্যকার তুমুল দ্বন্দ্বের কথা সিনেমা প্রেমীদের সবারই জানা।
ব্লেকের আনা গুরুতর সব অভিযোগ এবং বালডোনির পাল্টা ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলায় গত দুই বছর ধরে উত্তাল ছিল হলিউড। অবশেষে মে মাসে আদালতের বাইরে দুই পক্ষ সমঝোতায় আসার পর, গত বুধবার দীর্ঘ দুই বছরের নীরবতা ভেঙে স্ত্রী এমিলিকে সাথে নিয়ে ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তা শেয়ার করলেন জাস্টিন বালডোনি।
ভিডিওর শুরুতেই জাস্টিন জানান, কেন তারা এতদিন চুপ ছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘গত দুই বছর আমরা একটা শব্দও বলিনি। এর মানে এই নয় যে আমাদের কিছু বলার ছিল না। বরং আমরা চেয়েছিলাম বিচার ব্যবস্থা যেন তার নিজস্ব গতিতে চলে।’
পাশে বসে থাকা স্ত্রী এমিলি বালডোনি নিজের কান্না চেপে বলেছেন, “একটি পরিবার হিসেবে আমাদের যে কী পরিমাণ ট্রমা এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, পুরো বিষয়টিকে ‘নারীদের অধিকারের লড়াই’ হিসেবে সাজিয়ে আমাদের ওপর চরম অবিচার করা হয়েছে।”
জাস্টিন আরও যোগ করেন, বাতাসে তাদের নামে অনেক নোংরা মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবে তারা কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে অংশ নিয়ে বিতর্কের শোরগোল আর বাড়াতে চাননি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্লেক লাইভলি অভিযোগ করেন যে, ছবির পরিচালক ও কো-স্টার জাস্টিন বালডোনি সেটে তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা ও যৌন হয়রানি করেছেন। এর জবাবে বালডোনি ও তার প্রযোজনা সংস্থা ‘ওয়েফেয়ারার স্টুডিওস’ ব্লেক লাইভলি এবং তার স্বামী ‘ডেডপুল’ খ্যাত তারকা রায়ান রেনল্ডসের বিরুদ্ধে উল্টো ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল এক মানহানির মামলা ঠুকে দেন।
বালডোনির দাবি ছিল, সিনেমার সম্পূর্ণ ক্রিয়েটিভ কন্ট্রোল নিজের হাতে নেওয়ার জন্য ব্লেক তার মেগাসেলেব্রিটি বন্ধুদের ব্যবহার করে এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত ব্লেক লাইভলির আনা ১৩টি অভিযোগের মধ্যে প্রধান ১০টি অভিযোগই, যার মধ্যে যৌন হয়রানির অভিযোগও ছিল যা পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ব্লেক লাইভলি চুক্তিভিত্তিক কাজ করায় ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রম আইন এখানে খাটবে না। ফলে বালডোনি আইনিভাবে অনেকটাই ক্লিনচিট পেয়ে যান।
তবে আইনি মারপ্যাঁচে ধাক্কা খেয়েছেন বালডোনিও। আদালত তার করা ৪০০ মিলিয়নের মানহানির মামলাটিও খারিজ করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি জাস্টিন বালডোনি ও তার স্টুডিওকে আদেশ দেওয়া হয়েছে ব্লেক লাইভলির সম্পূর্ণ আইনি লড়াইয়ের খরচ পরিশোধ করার জন্য।
ব্লেকের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে ৮০ লাখ ডলারেরও বেশি খরচের বিল পেশ করেছেন। আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে বালডোনিকে এই বিশাল অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে হবে অথবা আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে হবে।
সবশেষে বালডোনি তার ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যখন আমাদের কোনো কথা বলার অধিকার ছিল না, তখন আপনারাই আমাদের হয়ে আওয়াজ তুলেছেন। আমরা এখন ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রেখে ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।’





