অস্কারজয়ী এডিটর মার্সিয়া লুকাস আর নেই

মার্সিয়া লুকাস
হলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্টার ওয়ার্স’। পর্দায় ভিনগ্রহের সেই অবিশ্বাস্য যুদ্ধ দেখে যারা বড় হয়েছেন, তাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, পর্দার আড়ালে থেকে এই পুরো জগতকে নিখুঁত রূপ দিয়েছিলেন এক নারী। তিনি অস্কারজয়ী কিংবদন্তি চলচ্চিত্র সম্পাদক মার্সিয়া লুকাস। ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ৮০ বছর বয়সী এই গুণী তারকা। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মার্সিয়া লুকাসের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার পরিবার এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, তিনি কেবল একজন অস্কারজয়ী দুর্দান্ত গল্পকারই ছিলেন না, বরং হলিউডে নারীদের পথ দেখানোর একজন অগ্রদূতও ছিলেন।
বিখ্যাত পরিচালক এবং স্টার ওয়ার্সের স্রষ্টা জর্জ লুকাসের সাথে ১৯৬৯ সালে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন মার্সিয়া। এরপর স্বামীর শুরুর দিকের প্রায় সব সিনেমার প্রধান সম্পাদক ছিলেন তিনি। জর্জ লুকাসের বায়োগ্রাফিতে মার্সিয়াকে পরিচালকের ‘গোপন অস্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টার ওয়ার্স সিনেমার সেই আইকনিক শেষ যুদ্ধের দৃশ্যটি এডিট করতে মার্সিয়ার প্রায় দুই মাস সময় লেগেছিল। এই সিনেমার নিখুঁত সম্পাদনার জন্যই ১৯৭৮ সালে তিনি অস্কার বা অ্যাকাডেমি পুরস্কার জয় করেন।
শুধু তাই নয়, স্টার ওয়ার্স সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র ‘ওবি-ওয়ান কেনেডি’কে গল্পে মেরে ফেলার আইডিয়াটি প্রথম জর্জ লুকাসকে মার্সিয়াই দিয়েছিলেন, যা পুরো সিনেমার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ‘স্টার ওয়ার্স’ ছাড়াও হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক মার্টিন স্করসেসির ক্লাসিক সিনেমা ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ এর সম্পাদনার পেছনেও বড় ভূমিকা ছিল মার্সিয়ার।
১৯৮৩ সালে ‘রিটার্ন অফ দ্য জেডি’ সিনেমাটি মুক্তির পর জর্জ লুকাসের সাথে মার্সিয়ার ১৪ বছরের সংসারের ইতি ঘটে এবং এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ এডিটিং প্রজেক্ট। নিজের কাজ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মার্সিয়া বলেছিলেন, ‘আমি সিনেমা এডিট করতে ভীষণ ভালোবাসি। যেকোনো সাধারণ ভিডিও বা ফুটেজকে কেটেকুটে অসাধারণ বানিয়ে ফেলার একটা ন্যাচারাল ক্ষমতা ঈশ্বর আমাকে দিয়েছেন।’
তার এই চিরপ্রস্থানে হলিউড হারিয়েছে সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক কারিগরকে। পর্দার আড়ালে থাকলেও তার নিখুঁত কাজের জাদু সিনেমার পর্দায় আজীবন বেঁচে থাকবে।









