সালমান শাহ হত্যা মামলা, জামিন পেলেন না ডন
আগামীর সময় প্রতিবেদক

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে ডনের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মফিজুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে ডন কিছুই জানতেন না। তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিনি জামিন পাওয়ার অধিকারী। এ ছাড়া তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলেও আদালতকে জানান তার আইনজীবী। ডনের স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হবেন না বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। ওই নির্দেশের পর মামলার বাদী হিসেবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলা করেন। এতে সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদের নামও রয়েছে।
তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী নীলা চৌধুরী মামলার বাদী হন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়।





