রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়। ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে হামলার আগে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই পরিস্থিতি সহিংসতায় গড়িয়েছে বলেও দাবি তাদের।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
হামলার প্রতিবাদে সোমবার ক্লাস বর্জন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। একই সঙ্গে দুপুরে একাডেমিক সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় পরবর্তী কর্মসূচি ও করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিভাগের সভাপতি।
মানববন্ধনে বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা তারা আশা করেননি। তার দাবি, হামলার আগে দুই পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে মারধরের হুমকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত দুই দিন প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল।
তিনি বলেছেন, ‘এই ঘটনায় দুইটি পক্ষ ফেসবুকে একে অপরকে মারধরের হুমকি দিয়ে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত দুই দিনে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে এবং এই সুযোগে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দাবি পরিষ্কার- যারা সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত শাস্তির উপযুক্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।’
সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বললেন, ‘সাংবাদিকরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় জনগণের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেছে। তারা আমাদের রক্ষাকবচ। আমরা যদি সঠিক সাংবাদিকতার সুযোগ না রাখতে পারি, তাহলে দেশ আবার অন্ধকারে চলে যাবে।’
শিক্ষকতার তিন দশকে সাংবাদিকদের ওপর এমন আঘাত দেখেননি বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মশিহুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলা করে হামলাকারীদের ফৌজদারি আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে, যাতে একজন শিক্ষার্থী নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে এবং গণমাধ্যমকর্মীরা নির্ভয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।’
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যম সংস্কারের পরিবর্তে বিভিন্ন জায়গায় দখল ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
‘গতকালকের ঘটনা খেয়াল করলে দেখা যাবে, নির্দিষ্ট করে করে সাংবাদিকদের মারা হয়েছে,’ যোগ করলেন তিনি।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বললেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন রক্তাক্ত, ব্যথায় কাতর, তখন আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা বিভাগের আজকের ক্লাস বর্জন করেছি। দুপুরে একাডেমিক কমিটির সভাও আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও দৈনিক আগামীর সময়ের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আমজাদ হোসেন শিমুল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম ধ্রুব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির অর্থ সম্পাদক দীন ইসলাম, বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন সিদ্দিকা রূপাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেহ শোয়েব।
রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়েরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আগামীর সময়ের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামসহ চার সাংবাদিক আহত হন। আহত সাংবাদিকদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে।
এ ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।





