রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা করার আশ্বাস প্রশাসনের

বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিমসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: আগামীর সময়
রাতভর উত্তেজনার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সেই আশ্বাসে পুরোপুরি থামেনি ক্ষোভ।
আজ সোমবারের মধ্যে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম। প্রশাসনের এ আশ্বাসের পর রাতের মতো কর্মসূচি থেকে ফিরে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা।
তবে তাদের দাবি, শুধু মামলা নয়, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। পড়াশোনা শেষ করা অভিযুক্তদের সনদ বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।
গতকাল রবিবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর রাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচিতে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। আন্দোলনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক হয়। সেখানে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হলে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।
তবে এ স্থগিতাদেশকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখছেন না সাংবাদিকরা।
তাদের দাবি, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মামলা করার সিদ্ধান্ত এবং অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত রাতের মধ্যেই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার দাবি জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ আপাতত কর্মসূচি থেমেছে। ক্ষোভ থামেনি।
বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা/ অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান, হল প্রভোস্টসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রবিবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশে তারা সেখানে এসেছিলেন বলে অভিযোগ।
তখন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। খবর পেয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তারা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
কয়েকজনের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা ভিডিও করতে এগিয়ে যান। এ সময় সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবানকেও মারধর করা হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
এরপর সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। এ সময় দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। এতে জাহিদুলের মাথা ফেটে যায়।
সাংবাদিকদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্যদেরও পুঁতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
হামলায় গুরুতর আহত হন চার সাংবাদিক। তারা হলেন— দৈনিক আগামীর সময়ের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এর মধ্যে জাহিদুল ইসলামের মাথায় আঘাত লাগে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’





