‘কোনো কথাবার্তা ছাড়াই আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়’

ছবি: আগামীর সময়
কয়েক ঘণ্টা আগেও খবর সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাদা বিছানায় শুয়ে তিনি। মাথায় কয়েকটি সেলাই, দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন। হাঁটুতেও গুরুতর চোট। মাথায় আঘাতের পর রক্তে ভেসে গিয়েছিল মুখ। এভাবেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ‘দৈনিক আগামীর সময়’-এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম।
রবিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলেন জাহিদুলসহ চার ক্যাম্পাস সাংবাদিক। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর কোনো কথাবার্তা ছাড়াই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে চার সাংবাদিক আহত হন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জাহিদুল বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে এমন তথ্য পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পৌঁছামাত্রই কোনো কথাবার্তা ছাড়াই ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব লোহার রড দিয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেন। সঙ্গে আমার আরও তিন সহকর্মীর ওপরও এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়।’
জাহিদুলের ভাষ্য, ছাত্রদলের কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। এমনকি হামলায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবকেও তিনি ভালোভাবে চিনতেন না। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের কারও সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ ছিল না। এমনকি ছাত্রদলের যে নেতা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন, তাকেও আমি ওইভাবে চিনতাম না। কোনো কারণ ছাড়াই আমার ওপর আক্রমণ শুরু করেন।’
সাংবাদিকের কাজের বড় অংশই ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা, পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিও ধারণ করা এবং ঘটনার তথ্য পাঠকের সামনে তুলে ধরতেই সেখানে গিয়েছিলেন জাহিদুলরা। কিন্তু খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই নিজেই হয়ে যান সেই ঘটনার শিকার।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাহিদুল জানান, ‘আমার মাথা ফেটে যায়। এছাড়া আমার হাঁটুর মধ্যে লিগামেন্টের সমস্যা হয়ে যায়। আমার দুই হাতেও আঘাত করা হয়েছে।’
অভিযোগ রয়েছে, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। সাংবাদিকরা সেই পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের বাধা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে জাহিদুলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চার ক্যাম্পাস সাংবাদিক আহত হন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে কোনো ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগে সেই তথ্য সংগ্রহ করা। ছাত্রদলের অস্ত্রের মহড়ার সেই তথ্য সংগ্রহের জন্যই ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিল। তারা সেখানে পৌঁছামাত্রই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর এমন অতর্কিত হামলার ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক এই হামলার ঘটনায় আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব।’




