অনীকদা কুমিল্লায় তার আদি বাড়ি প্রসঙ্গে প্রায়ই বলতেন: নওশাবা

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ বলেছেন, নির্মাতা অনীক দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তার অভিনয়জীবনে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন থিয়েটারে কাজ করলেও সিনেমায় কাঙ্ক্ষিত চরিত্রে সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপও তুলে ধরেছেন তিনি।
গতকাল ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন কলকাতার জনপ্রিয় নির্মাতা অনীক দত্ত। তাকে স্মরণ করেই কাজী নওশাবা আহমেদ জানালেন অনীক দত্তের কাজের মাধ্যমে তিনি আবার শিল্পী হিসেবে নিজের ওপর আস্থা খুঁজে পান। তার ভাষ্য, ‘এই কাজের সুবাদেই আমি নিজের ওপর আবার একবার আস্থা রাখতে পেরেছিলাম। দীর্ঘদিন থিয়েটার করেছি, কিন্তু সিনেমায় ভালো চরিত্রে কাজের সুযোগ খুব একটা পাইনি। সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল, আর অনীকদার মাধ্যমে সেই সুযোগটা পেয়েছি।’
তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে পরিচালক সবসময় সেটে থাকতে না পারলেও প্রতিটি বিষয় নজরদারিতে রাখতেন এবং পুরো ইউনিটকে অনুপ্রাণিত করতেন। নওশাবার ভাষায়, তিনি কাজের স্বাধীনতা দিতেন এবং উৎসাহ দিয়ে বলতেন, ‘ভালোবেসে কাজটা করে যাও, দেখবে অনেক দূর এগোতে পারবে।’
অভিনেত্রী আরও উল্লেখ করেন, পরিচালক চাইতেন ছবিটি বাংলাদেশেও মুক্তি পাক। কুমিল্লায় তার আদি বাড়ির প্রসঙ্গেও তিনি প্রায়ই বলতেন বলে জানান নওশাবা।
নওশাবা বললেন, অনীক দত্ত খুবই স্পষ্টভাষী মানুষ ছিলেন। তার ভাষ্য, ‘মনে যা থাকত, সেটাই বলতেন। অনেকেই বলতেন উনি রাগী, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কখনো তেমন অভিজ্ঞতা হয়নি। বকুনি দিলেও পরে বুঝিয়ে দিতেন কোথায় ভুল হচ্ছে।’
‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ছবির কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নওশাবা বলছেন, এই চরিত্রের জন্য শুধু আস্থা নয়, ধীরে ধীরে তাকে তৈরি করে নিয়েছিলেন পরিচালক। নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনেতাকে তিনি প্রথম সুযোগ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন নওশাবা।
কাজী নওশাবা বলছেন, অসুস্থ অবস্থাতেও অনীক দত্ত তার খোঁজ রাখতেন এবং বারবার বলতেন, ‘হারিয়ে গেলে চলবে না, অনেক কাজ করতে হবে।’ নওশাবা বললেন, ‘তিনি না থাকলেও তার মতো মানুষের শিক্ষা সবসময় আমার সঙ্গে থাকবে। উনি যেখানেই থাকুক, শান্তিতে থাকুক, এটাই চাই।’







