বিশ্বকাপের চক্করে ঘুম হারাম অমিতাভ বচ্চনের!

অমিতাভ বচ্চন
পুরো বিশ্ব এখন কাঁপছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ অর্থাৎ ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর উন্মাদনায়। আর এই ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত ঢালিউড-বলিউড থেকে শুরু করে খোদ বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনও।
তবে মেগা টুর্নামেন্টের এই শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে গিয়ে এক অদ্ভুত বিপাকে পড়েছেন ৮৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। খেলা দেখার চক্করে তার দৈনন্দিন রুটিন ও ঘুমের সময়সূচি নাকি পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে গেছে!
সম্প্রতি নিজের ব্লগে ফুটবল বিশ্বকাপের নানান অঘটন এবং তরুণ তুর্কিদের পারফরম্যান্স নিয়ে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন ‘বিগ বি’।
টাম্বলার ব্লগে নিজের জীবন যাপনের কথা নিয়মিত ভক্তদের জানান অমিতাভ। সেখানে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, এবারের বিশ্বকাপের সময়সূচির কারণে তার সময়ের কোনো হিসাব মিলছে না।
অমিতাভ লেখেন, ‘টাইমলাইন এবং সময়ের পুরো ধারণাই এখন ওলটপালট হয়ে গেছে। এর একমাত্র কারণ— ২০২৬ বিশ্বকাপ। খেলা সম্প্রচারের সময়গুলো এত অদ্ভুত যে আমাদের দৈনন্দিন দিনগুলোকে আরও কঠিন করে তুলছে। ঘুমানোর সময় পাচ্ছি না। কিন্তু তাও আমরা খেলা দেখছি, প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটাচ্ছি, আবার দল হারলে আফসোসও করছি।’
এবারের বিশ্বকাপে একের পর এক বড় দলের বিদায় এবং তথাকথিত ছোট দলগুলোর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স অমিতাভকে বেশ আনন্দ দিয়েছে।
তিনি লেখেন, “খুব দুঃখের বিষয় যে ফুটবলের চিরচেনা বড় বড় দেশগুলো বিদায় নিয়েছে। তবে আমি এটা দেখে রোমাঞ্চিত যে, যাদের নিয়ে আমরা কখনো আশাই করিনি, সেই কম পরিচিত দলগুলো পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে এবং নিজেদের জাত চিনিয়েছে। কথায় বলে ‘সেরা দলটির জয় হোক’, কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার আগে আসলে বোঝার উপায় নেই কে সেরা!”
আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি বিশেষ দিক অমিতাভের মন ছুঁয়ে গেছে। ক্লাব ফুটবলে সারা বছর যারা একে অপরের চিরশত্রু, দেশের জার্সিতে তারাই আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন। এই বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে ভারতের আইপিএলের উদাহরণ টেনে বিগ বি বলেছেন, “ঠিক যেমন আইপিএল-এ খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে জানপ্রাণ দিয়ে লড়ে। কিন্তু যখনই জাতীয় দলের ডাক আসে, সব ভুলে তারা ‘টিম ইন্ডিয়া’ হয়ে যান। এই মানসিকতার জন্য দারুণ চরিত্রের প্রয়োজন হয়।”
বিশ্বকাপে ১৭ বা ১৮ বছরের কিশোর খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য দেখে রীতিমতো অবাক অমিতাভ বচ্চন। বর্তমান প্রজন্মের সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে তিনি নিজের অতীত হাতড়ে লেখেন, ‘প্রতিটি বিশ্বকাপই নতুন প্রতিভার জন্ম দেয়। এই টুকটুকে বয়সের তরুণরা পুরো দেশের কোটি মানুষের স্বপ্ন পিঠে নিয়ে মাঠে নামছে। ওদের দেখে নিজেকে প্রশ্ন করি— আচ্ছা, আমরা এই বয়সে কী করছিলাম? সত্যি বলতে, আমরা ওদের মতো এতটা সাহসী বা প্রতিভাবান কখনোই ছিলাম না। তবে তরুণ প্রজন্ম আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবী দেখবে, এটাই শান্তি।’
খেলার আলোচনা শেষে অমিতাভ বচ্চন জানান, ফুটবল নিয়ে এত মাতামাতির পর মুম্বাইয়ের ঘরের বাইরে মিষ্টি রোদ উঠেছে, এখন তার কিছুটা রোদ পোহানো দরকার।
৮৩ বছর বয়সেও অমিতাভের এই ফুটবল প্রেম এবং গভীর রাত জেগে খেলা দেখার এনার্জি দেখে কুর্ণিশ জানাচ্ছেন তার কোটি ভক্ত।






