‘স্টান গান, ভাঙা পা, চোখেও আঘাত’, সুশান্তের পোস্টমর্টেম নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শ্বেতার

সুশান্ত সিং রাজপুত ও শ্বেতা
প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর দীর্ঘ বছর পরও তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি অভিনেতার বোন শ্বেতা সিং কীর্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তার ভাইয়ের মৃত্যু ও পোস্টমর্টেম নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেছেন।
আটলান্টায় একটি মেডিটেশন রিট্রিটে অংশ নেওয়ার পর প্রকাশিত ওই ভিডিওতে শ্বেতা দাবি করেন, সুশান্তের পোস্টমর্টেম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন।
শ্বেতা সিং কীর্তির নতুন দাবি অনুযায়ী, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পেছনে গভীর কোনো সহিংসতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তার বক্তব্য মতে, মৃত্যুর আগে অভিনেতার ওপর প্রচণ্ড শারীরিক জোর প্রয়োগ করা হয়েছিল, যার ফলে তার একটি পা ভেঙে যায় এবং চোখেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।
এমনকি তাকে কাবু করতে ঘাড়ের কাছে সম্ভবত স্টান গান ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে এই সমস্ত গুরুতর দাবির সপক্ষে শ্বেতা কোনো নতুন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, ফরেনসিক তথ্য বা প্রাতিষ্ঠানিক নথি প্রকাশ্যে আনেননি। একই সঙ্গে তিনি অনুরাগীদের প্রতি হিংসা বা প্রতিশোধের বদলে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে শ্বেতার এই সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে ২০২০ সালে মুম্বই পুলিশ ও পরবর্তীকালে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর জমা দেওয়া মূল পোস্টমর্টেম রিপোর্টের বেশ কিছু স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে।
তৎকালীন অফিসিয়াল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, অভিনেতার শরীরে কোনো লড়াই বা ধস্তাধস্তির চিহ্ন ছিল না এবং তার নখ সম্পূর্ণ পরিষ্কার পাওয়া গিয়েছিল।
এছাড়া ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ‘ঝুলন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ’-কেই চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে কোনো পরিকল্পিত অপরাধের প্রমাণ মেলেনি। অন্যদিকে, টেজার বা স্টান গান ব্যবহারের বিষয়টি পূর্বে আলোচনায় এলেও বিশেষজ্ঞরা জানান, এটি ব্যবহার করা হলে চামড়ায় বিদ্যুৎ স্পর্শের স্পষ্ট পোড়া দাগ থেকে যায়—যা সুশান্তের দেহে অনুপস্থিত ছিল।
২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বইয়ের বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে ৩৪ বছর বয়সী সুশান্তের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এতদিন পর শ্বেতার ভিডিওর কারণে নতুন করে নেটমাধ্যমে সোরগোল তৈরি হলেও, সরকারি বা অফিসিয়াল তদন্তের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন মোড় বা নতুন নথি যুক্ত হয়নি।




