দেড় যুগ আগে ক্যাটরিনার জন্মদিনে কীভাবে ভাঙে সালমান-শাহরুখের বন্ধুত্ব

সংগৃহীত ছবি
আজ থেকে ঠিক ১৮ বছর আগের কথা। ক্যাটরিনা কাইফের জন্মদিনের পার্টিতে ঘটেছিল বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হাঙ্গামা।
বলিউডের দুই রাজপুত্র—সালমান খান ও শাহরুখ খানের সেই লড়াই এক ধাক্কায় বদলে দিয়েছিল পুরো ইন্ডাস্ট্রির সমীকরণ। যদিও আজ তারা গলায় গলায় বন্ধু, কিন্তু ২০০৮ সালের সেই এক রাতের ঝগড়া তাদের মাঝে তৈরি করেছিল যোজন যোজন দূরত্ব।
সবচেয়ে বড় এই ঝামেলার শুরুটা হয়েছিল টেলিভিশন শো নিয়ে খোঁচাখুঁচি থেকে। ক্যাটরিনার জন্মদিনের পার্টিতে সালমান খান নাকি বেশ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তিনি হঠাৎ করেই শাহরুখের রিয়্যালিটি শো ‘ক্যায়া আপ পাঁচভি পাস সে তেজ হ্যায়?’ নিয়ে হাসাহাসি শুরু করেন।
শুধু তাই নয়, সালমান রেগে গিয়ে শাহরুখকে স্বার্থপর ও মতলবি বলে বসেন। সালমানের অভিযোগ ছিল, শাহরুখ নাকি শুধু নিজের প্রয়োজনে মানুষকে ডাকেন, কাজ ফুরালে আর খোঁজ রাখেন না।
ভেতরের খবর হলো, সালমান চেয়েছিলেন শাহরুখ যেন তার ‘ম্যায় অউর মিসেস খান্না’ সিনেমায় একটা ছোট চরিত্রে ক্যামিও দেন। কিন্তু শাহরুখ তাতে রাজি হননি।
অথচ এর আগে শাহরুখের ‘ওম শান্তি ওম’ ছবিতে সালমান নিজে এসে নেচে গেছেন, আবার শাহরুখের সঞ্চালিত ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’ শোতেও ক্যাটরিনাকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।
শাহরুখও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। সালমানের খোঁচার জবাবে তিনিও সালমানের গেম শো ‘দশ কা দম’ নিয়ে উল্টো টিপ্পনী কাটেন।
কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে হাতাহাতির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সালমান নাকি শাহরুখকে ঘুষি মারার হুমকি দেন।
জবাবে শাহরুখ সাফ জানিয়ে দেন, দরকার হলে সালমানের নিজের পার্টিতেই তাকে পেটাতে দ্বিধা করবেন না তিনি। পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহরুখের স্ত্রী গৌরী খান মাঝখানে এসে দাঁড়ান এবং জোর করে শাহরুখকে পার্টি থেকে টেনে নিয়ে বের হয়ে যান।
পরে সালমান এমন অভিযোগও করেছিলেন যে, শাহরুখ নাকি তার সাবেক প্রেমিকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে নিয়ে বাজে কথা বলেছিলেন।
এই ঘটনার পর ২০০৮ সালের অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান সালমানকে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি বাবার মতো ম্যাচিউরড চিন্তা করি, আর সালমান চিন্তা করে বাচ্চার মতো। আমাদের মধ্যে কোনো মিল নেই। একসময় ভালো দিন পার করেছি ঠিকই, কিন্তু সময় বদলে গেছে। আমরা যে যার দুনিয়ায় ভালো আছি। আমরা আর বন্ধু নই।’
দীর্ঘ ৫ বছর এই দুই খানের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল। অবশেষে ২০১৩ সালে রাজনৈতিক নেতা বাবা সিদ্দিকীর ইফতার পার্টিতে গিয়ে দুজনের মান-অভিমান ভাঙে। সেখানে তারা ক্যামেরার সামনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।
সেই রাতে আসলে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে সালমান বা শাহরুখ কেউই কখনো সরাসরি মুখ খোলেননি। সংবাদমাধ্যমের সূত্র ধরেই এসব তথ্য সামনে এসেছিল।
তবে সেই তিক্ত অতীত ভুলে আজ তারা একে অপরের সুখ-দুঃখের সবচেয়ে বড় ভাগীদার। পর্দায় ও পর্দার বাইরে তাদের ভাই-ভাই সম্পর্ক বলিউডের এক দারুণ উদাহরণ।






