স্ত্রীর কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন না সঞ্জয় দত্ত!

প্রথম স্ত্রী রিচা শর্মার সাথে সঞ্জয় দত্ত
বলিউডের ‘খলনায়ক’ খ্যাত তারকা সঞ্জয় দত্তের বড় মেয়ে তৃশালা দত্ত। বাইরে থেকে অনেকেই তাকে একজন সৌভাগ্যবান স্টার কিড মনে করলেও, তার শৈশবটা কেটেছে প্রচণ্ড মানসিক কষ্ট আর ঝড়ের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে তৃশালা দত্ত তার জীবনের সেই অন্ধকার দিনগুলো নিয়ে কথা বলেছেন।
তৃশালা জানিয়েছেন, মাত্র ৮ বছর বয়সে ব্রেন টিউমারে তার মা রিচা শর্মার মৃত্যুর গল্প এবং সেই কঠিন সময়ে বাবা সঞ্জয় দত্ত কেন তাদের পাশে পুরোটা সময় থাকতে পারেননি।
তৃশালা জানান, ১৯৮৯ সালে যখন তার মায়ের ব্রেন ক্যান্সার ধরা পড়ে, ততদিনে তা চতুর্থ স্টেজে পৌঁছে গিয়েছিল। চিকিৎসার জন্য মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় সঞ্জয় দত্তের ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময় চলছিল।
তৃশালা বলেছেন, একজন ব্যস্ত অভিনেতা হওয়ায় বাবার পক্ষে ভারত ছেড়ে পুরো সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্ভব ছিল না। শুটিংয়ের তাগিদে বাবাকে অনবরত ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যাতায়াত করতে হতো।
তৃশালা আরও যোগ করেন ‘সবাই ভাবে আমি বড় তারকার মেয়ে বলে অনেক আরামে বড় হয়েছি। কিন্তু সবাই যেমনটা ভাবে যে আমার সবকিছু অনায়াসে হাতেনাতে চলে এসেছে, বিষয়টা তেমন নয়। আমাকে আজ এই জায়গায় আসতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে বড় হওয়ার সময় নিজের ভারতীয় পরিচয়ের কারণে তীব্র বুলিং বা হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল তৃশলাকে। মায়ের অসুস্থতার মানসিক চাপ এবং একা থাকার কষ্টের কারণে একপর্যায়ে তিনি অতিরিক্ত খাওয়া শুরু করেন, যা তার ওজন বাড়িয়ে দেয়। তৃশালা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, সে সময় মানুষ তাকে নিয়ে খোঁচা দিয়ে বলত যে তাকে দেখতে মোটেও সঞ্জয় দত্তের মেয়ের মতো লাগে না।
১৯৯৬ সালে মাকে হারানোর পর তৃশালা আমেরিকার নানার বাড়িতে বড় হন। বলিউডের চাকচিক্য থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখে তিনি পড়াশোনায় মন দেন। সব বাধা পেরিয়ে তৃশালা দত্ত আজ যুক্তরাষ্ট্রে একজন সফল মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন।








