বাংলা গান, গিনেস বুক ও গ্র্যামিতে আশা ভোঁসলের কীর্তি

আশা ভোঁসলে
জানেন কি, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মনোনয়ন তালিকায় স্থান পাওয়া ভারতের প্রথম কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে। বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে দু’বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পান তিনি। ১৯৯৭ সালে ওস্তাদ আলি আকবর খানের সঙ্গে আশা ভোঁসলের ‘লিগ্যাসি’ মনোনীত হয় সেরা ওয়ার্ল্ড মিউজিক অ্যালবাম বিভাগে। ২০০৬ সালে সেরা কন্টেমপোরারি ওয়ার্ল্ড মিউজিক অ্যালবাম বিভাগে মনোনয়ন পায় ক্রোনোস কার্টেট ব্যান্ড ও আশা ভোঁসলের যৌথ কাজ ‘ইউ হ্যাভ স্টোলেন মাই হার্ট- সংস ফ্রম আর ডি. বর্মণ’স বলিউড’।
রাহুল দেব বর্মণের সুরে বলিউডে আশা ভোঁসলের বেশিরভাগ গানই কালজয়ী। ১৯৬৬ সালে ‘তিসরি মঞ্জিল’ ছবিতে মোহাম্মদ রফির সঙ্গে আশার গাওয়া ‘ও হাসিনা জুলফোওয়ালি জানে জাহা’, ‘আজা আজা ম্যায় হু পেয়ার তেরা’ সবার মুখে মুখে ফিরেছে। ১৯৭১ সালে ‘ক্যারাভ্যান’ ছবিতে আর ডি বর্মণ পঞ্চমের সঙ্গে তার আরেক সফল কাজ ‘পিয়া তু আব তো আজা’। ১৯৭২-এ ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ ছবিতে তার আসমুদ্রহিমাচল হিট ছিল ‘দম মারো দম’। ‘ইজাজত’ ছবিতে ‘মেরা কুছ সামান’ শিরোনামের গজল গেয়ে আশা ভোঁসলে জিতে নেন ভারতের জাতীয় পুরস্কার।
গিনেস বুকে আশা
বর্ষীয়ান কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে গান গেয়ে অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান। ২০১১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গানে কণ্ঠ দেওয়া শিল্পী হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নেন আশা ভোঁসলে। ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের ২০টিরও বেশি ভাষায় একক, দ্বৈত ও সম্মিলিতসহ প্রায় ১১ হাজার গান রেকর্ড করেন তিনি। ২০০০ সালে তিনি ভূষিত হন দাদাসাহেব ফালকে সম্মাননায়। ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মবিভূষণ। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনীত হন তিনি। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও তাকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রদান করে।
বাংলা গান
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে হিন্দি, বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনেক চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। এরমধ্যে রয়েছে অসংখ্য বাংলা গান। রাহুল দেব বর্মণের সুরে তার গাওয়া ‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও’, ‘কিনে দে রেশমি চুড়ি’, ‘আজ যাই, আসব আরেক দিন’, ‘তোমারই চলার পথে’ আজও যেন পুরোনো হয়নি। বাংলা ছবির গানে অবাধ যাতায়াত ছিল তার। বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে ‘অমরসঙ্গী’তে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘চোখের আলোয়’ ছবিতে ‘আর কত রাত একা থাকবো’, ‘গুরু দক্ষিণা’য় ‘আকাশের চাঁদ মাটির বুকে’ গানগুলো কয়েক যুগ পরেও শ্রোতাদের মনে দোলা দেয়। বাংলা ভাষায় সলিল চৌধুরী ও সুধীন দাশগুপ্তের সুরে গান গেয়েছেন তিনি। এছাড়া গেয়েছেন রবীন্দ্রসংগীত।
আশার প্রয়াণ
রবিবার দুপুর ১২টায় মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কিন্নরকণ্ঠী। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। গায়িকার মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ উপমহাদেশের সংগীতজগৎ। আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন সংগীতানুরাগীদের মনে যেন বিষাদের সুরে ভেসে উঠছে ‘আভি না যাও ছোড় কার, কে দিল আভি ভরা নেহি।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আশা ভোঁসলে। ফুসফুসে সংক্রমণ ছিল তার। এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তড়িঘড়ি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার সুস্থতা কামনা করছিলেন ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। তার শরীরে বাসা বেঁধেছিল অ্যালঝাইমার। এ কারণে বেশ কয়েক বছর নীরব ছিল কণ্ঠ। তার মৃত্যুতে উপমহাদেশের সংগীতজগতের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
আশা ভোঁসলে থাকতেন লোয়ার পারেলের একটি বাড়িতে। সেখানেই সোমবার বেলা ১১টায় তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। এরপর বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ছেলে আনন্দ ভোঁসলে রবিবার সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

