আফ্রিকা : তিমবুকতু
অদৃশ্য ফুটবলে দুর্বার বিদ্রোহ
- স্থানীয় পুরুষরা যখন একটি কাল্পনিক বল দিয়ে ফুটবল খেলে, তখন কী করণীয়, সে সম্পর্কে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে ওই শাসকগোষ্ঠী

তিমবুকতু। উত্তর আফ্রিকার দেশ মালির এক প্রাচীন শহর। সেখানে শাসন শুরু করে একদল উগ্রবাদী। সেই শাসনব্যবস্থা ঘিরেই মৌরিতানিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মালিয়ান ফিল্মমেকার ২০১৪ সালে নির্মাণ করেছেন ‘তিমবুকতু’। এ ফিল্মে ফুটবল এসেছে ভিন্ন এক তাৎপর্য নিয়ে। চলচ্চিত্রটি জুড়ে উগ্রবাদী শাসনের প্রতি তিমবুকতুর অধিবাসীদের প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। যেমন, মাছ বিক্রেতা এক নারীকে গ্লাভস পরতে বাধ্য করা; পরিবার উগ্রবাদীদের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তুলে নিয়ে তরুণীকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া; গান গাওয়া এবং নিজের পরিবারের সদস্য নয়— এমন পুরুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর দায়ে একজন নারীকে চাবুক মারা এবং ব্যভিচারের অভিযোগ তুলে এক দম্পতিকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা। উগ্রবাদীরা যে নিজেদের করা নিয়ম নিজেরাই মানতে ব্যর্থ, সেই চিত্রও তুলে ধরেছে ‘তিমবুকতু’। যেমন, এর এক শীর্ষ চরিত্র ধূমপানের বিষয়টি লুকিয়ে রাখে; ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও প্রিয় ফুটবলারদের বিষয়ে আলাপ করে। আবার স্থানীয় পুরুষরা যখন একটি কাল্পনিক বল দিয়ে ফুটবল খেলে, তখন কী করণীয়, সে সম্পর্কে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে ওই শাসকগোষ্ঠী। কেননা, ওই খেলায় সত্যিকারের কোনো ফুটবল ছিল না; তাই সরাসরি শাস্তির আওতায় ফেলাও নিয়মের মধ্যে পড়ে না।
এভাবে অদৃশ্য ফুটবল এ চলচ্চিত্রে এক অন্যরকম দ্যোতনার জন্ম দিয়েছে, যে চিত্রকল্প ইতালিয়ান মাস্টার ফিল্মমেকার মিকেলাঞ্জেলো আন্তোনিওনির ‘ব্লো-আপ’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯৬৬ সালের সেই চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে অদৃশ্য বল ও র্যাকেট দিয়ে টেনিস খেলতে দেখা যায়। আন্তোনিওনির চিত্রকল্পটি অস্তিত্ব ও অস্তিত্বহীনতার মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যকে একাকার করে তুলেছিল। অন্যদিকে, ‘তিমবুকতু’র অদৃশ্য ফুটবলটি একটি সুপ্রাচীন জনপদে বিশেষ বিধানের নামে চেপে বসা এক অনাধুনিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহের প্রতীক।




