ইউরোপ : দ্য গোলকিপার’স ফিয়ার অব দ্য পেনাল্টি
বিশ্বযুদ্ধোত্তর নৃশংসতা

ভিম ভেন্ডার্স। ‘নিউ জার্মান’ ফিল্ম মুভমেন্টের অন্যতম অগ্রদূত। ১৯৭২ সালে নির্মিত তার দ্বিতীয় ফিচার ফিল্মটির শুধু শিরোনাম নয়, আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে ফুটবল। এটি শুরু হয় একটি ম্যাচের অ্যারিয়েল শট দিয়ে। উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রঙের টাইপফেসে ভেসে ওঠা বিশাল এক টাইটেল কার্ডের আড়ালে অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায় সেটি। ক্যামেরা খেলোয়াড়দের কাছাকাছি গেলে তাদের শরীরের সুনির্দিষ্ট নড়াচড়া ফুটে ওঠে। দেখা মেলে ইয়োসেফ ব্লশেরও। গোলকিপার সে। ফিল্মের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
খেলার পুরোটা সময় সে থাকে ঘোরে। এই ফাঁকে তার পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়িয়ে যায় বল। শটটি অফসাইড থেকে নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তার সেই দাবি মানতে নারাজ রেফারি। ব্লশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বহিষ্কৃত হয় খেলা থেকে। এরপর একটি স্ট্রিট কারে চড়ে পাড়ি জমায় ভিয়েনায়। সেখানে বিভিন্ন পানশালা, হোটেল আর সিনেমা হলে ঘুরে বেড়ায় উদ্দেশ্যহীনভাবে। এরই মধ্যে অপরিচিত এক নারীর সঙ্গে রাত কাটায় এবং নারীটিকে খুন করে। তারপর জনসমক্ষে গা ঢাকা দিতে অস্ট্রিয়ান সীমান্তের একটি ছোট শহরে আশ্রয় নেয়।
চলচ্চিত্রটির শেষদিকে অতীতের গোলকিপার এবং বর্তমানের হকার ব্লশ একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যায়। তখন পেনাল্টি শট দেখতে দেখতে সে জানায়, গোলপোস্টের নিচে এমন মুহূর্তে তার কেমন অনুভূতি হতো। ডান পাশে ঝাঁপ দেবে নাকি বাঁ পাশে— এ দ্বিধা তাকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়।
এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক গোয়েন্দা কাহিনিমূলক চলচ্চিত্র। নোবেলজয়ী অস্ট্রিয়ান সাহিত্যিক পিটার হ্যান্ডকের লেখা ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত। ভেন্ডার্সের সিনেমায় এসে তা পরিণত হয়েছে কাফকাধর্মী ঘোরগ্রস্ততায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়কালে ইউরোপে মুহূর্তের উত্তেজনায় খুনখারাবিসহ নানা অপরাধ নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে ওঠার সাক্ষ্যও দেয়। ব্লশের মানসিক বিভ্রান্তি এর মাধ্যমে ওই সময়কালের জনমানুষের বোধশক্তিহীনতা ও পশুত্বের ঘটিয়েছে বহিঃপ্রকাশ।




