হলিউড-বলিউডের যারা স্মার্টফোন ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে

(বাঁ থেকে) ক্রিস্টোফার নোলান ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট, সাইফ আলী খান, রণবীর কাপুর, জেনিফার লরেন্স
হলিউড-বলিউডের অনেক তারকা সচেতনভাবেই প্রযুক্তিকে এড়িয়ে চলেন নানা কারণে। কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, কারও মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে অনীহা।
হলিউডে সদ্য সাড়াজাগানো ‘দি ওডিসি’র পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের কোনো স্মার্টফোন নেই। এমনকি তিনি ইমেইলও ব্যবহার করেন না। কারণ, স্মার্টফোন হাতে থাকলে সেটির প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়তে পারেন বলে শঙ্কা আছে তার। বিমানবন্দরে অপেক্ষা কিংবা যাত্রাপথের অবসর সময় ফোনের পর্দায় কাটানোর বদলে চিন্তা ও কল্পনায় ডুবে থাকতেই ভালো লাগে ৫৫ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ-আমেরিকান নির্মাতার। ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ওপেনহাইমার’ ও ‘দি ওডিসি’তে কাজ করা অভিনেতা ম্যাট ডেমন জানিয়েছেন, নোলান কাউকে ফোন করার আগে তার স্ত্রী ও প্রযোজক সহযোগী এমা টমাসকে দিয়ে খবর পাঠান। এরপর হঠাৎ নোলানের ফোন আসে।
জেমস বন্ড ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমা ‘অ্যা ভিউ টু আ কিল’-এর খলনায়ক এবং ‘দ্য ডিয়ার হান্টার’ ও ‘পাল্প ফিকশন’-এর অভিনেতা ক্রিস্টোফার ওয়াকেনের কোনো স্মার্টফোন নেই। এমনকি তিনি কখনো ইমেইল ব্যবহার করেননি। প্রযুক্তি থেকে তার দূরত্ব এতটাই যে, নিজের অভিনীত ‘সেভারেন্স’ সিরিজটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে ডিভিডিতে দেখেছেন ৮৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা।
দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না আমেরিকান অভিনেতা উডি হ্যারেলসন। তার কাছে ডিভাইসটি অনেকটা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা অতিরিক্ত অঙ্গের মতো মনে হয়।
‘বার্বি’ তারকা মাইকেল চেরা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। তার মতে, এটি মানুষকে এমন অনুভূতি দিতে পারে যে এই প্রযুক্তি ছাড়া তার জীবনে কিছুই হবে না।
২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্মার্টফোন ছেড়ে দেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। ফোন ব্যবহারের সময় তার নিজেকে খুবই চাপে ও বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন মনে হয়। ফোন সরিয়ে রাখার পর সেই চাপ অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানান তিনি।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে নেই যারা
আমেরিকান
অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিজের জন্য উপযুক্ত মনে
করেন না। সিনেমার প্রচারের
প্রয়োজনে তার টিম একাধিকবার
অ্যাকাউন্ট খোলার অনুরোধ জানালেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকা তারকাদের মধ্যে অস্কারজয়ী অভিনেতা ব্র্যাড পিট অন্যতম। ফেসবুক, এক্স কিংবা ইনস্টাগ্রামে ক্রমাগত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণহীনতার বিষয়টি অপছন্দ করেন আমেরিকান অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট।
অনলাইন দুনিয়ার চাপ ও ভুল কিছু বলে ফেলার শঙ্কা অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্সকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রেখেছে।
‘হ্যারি পটার’ তারকা ড্যানিয়েল র্যাডক্লিফ অনলাইনে তর্কে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করেন। একসময় ফেসবুকে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী মিলা কুনিস। তার চোখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্রমে কে বেশি জোরে কথা বলছে, কে বেশি রাগ দেখাচ্ছে এবং কে বেশি নেতিবাচক— এমন প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছিল। ‘অ্যানোরা’ সিনেমার অভিনেত্রী মাইকি ম্যাডিসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই। এ তালিকায় আরও আছেন অভিনেত্রী সার্শা রোনান, ‘ইন্ডিয়ানা জোনস’ অভিনেত্রী ফিবি ওয়ালার-ব্রিজ।
বলিউডের
চিত্র
বলিউডে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকা
তারকার সংখ্যা কম নয়। আমির
খান ২০২১ সালে জন্মদিনের
পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার ঘোষণা দেন। অভিনেতা রণবীর
কাপুরের কোনো অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট
নেই। ব্যক্তিগত জীবনকে অতিরিক্ত নজরদারি থেকে দূরে রাখতেই
তার এই সিদ্ধান্ত। রেখা,
জয়া বচ্চন, সাইফ আলি খান,
রানী মুখার্জি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই। অন্যদিকে জন
আব্রাহাম পুরোপুরি অনলাইন থেকে বিচ্ছিন্ন না
হলেও নিজের ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের
অ্যাপ রাখেন না।



