রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরির জায়গা নিয়ে মারামারি, আহত ৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরির জায়গা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনের ঘটনা এটি। এতে দুই বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলী চৌধুরী আবিদ ও শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন।
সূত্র জানায়, সিরাজী ভবনের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরির জন্য জায়গা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এক পক্ষের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে বাঁশ পুঁতে কোর্ট তৈরির জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। পরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই স্থানে কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ঘটনার সময় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরির কাজে ব্যবহৃত বাঁশ দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার নাক ও চোখের নিচে জখম হয় এবং নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ওই শিক্ষার্থীর আরও দাবি, কয়েক দিন আগেই তারা ওই স্থানে কোর্ট তৈরি করেছিলেন। তবে অন্য পক্ষের সেখানে কোর্ট তৈরির দাবি প্রতিষ্ঠার মতো দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না।
অন্যদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, আমরা কোর্ট তৈরি করব বলে সেখানে বাঁশ পুঁতে জায়গাটি নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের কারণে সেখানে আরও কিছু বাঁশ পোঁতা হয়। অনুষ্ঠান শেষে তাদের বাঁশের সঙ্গে আমাদের বাঁশও তুলে নেওয়া হয়। এরপর আমাদের নির্ধারিত জায়গায় তারা কোর্ট তৈরি করতে চায়। বিষয়টি জানালে তারা মেনে নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু আজ আমাদের বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র কোর্ট তৈরি করতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে প্রক্টর স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করলে আমরা চলে যেতে চাই। এ সময় আবারও আমাদের ওপর হামলা করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এএইচএম খুরশিদ আলম জানান, ঘটনায় মোট তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাকে, একজনের মাথায় সামান্য আঘাত লেগেছে। অন্যজনের হাতে ব্যথা পেয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তার এক্স-রে করানো হয়। তবে পরীক্ষায় কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। মাথায় আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর ক্ষতস্থানেও ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিন শিক্ষার্থীই নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে গেছেন। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক স্বপ্নিল রহমান জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় বসেছেন। তবে এখনো ঘটনার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




