মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে আইসিটি কোর্স : ইউজিসি সদস্য

ছবি: আগামীর সময়
মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী জানুয়ারির মধ্যে ভাষা শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে আটটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে এসব কোর্স পরিচালনা করা হবে।
আজ রবিবার রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘দক্ষতাভিত্তিক মাদ্রাসা শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের ভাবনা’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা ও তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান বাড়াতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
ইউজিসি সদস্য জানান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দেশের আটটি বিভাগে আটটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগে ভাষা শিক্ষা ও আইসিটি প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। এতে তাদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সহজলভ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগের সক্ষমতা এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, সরকারের লক্ষ্য জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিকস, অটোমেশন ও ডেটা সায়েন্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান বের করতে হবে।
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমানভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, দক্ষ জনশক্তি ও উদ্যোক্তা হিসেবেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।
সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাহীনুল ইসলাম এবং কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। এতে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সেমিনারে দক্ষতাভিত্তিক মাদ্রাসা শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।



