বদলি-নবম পে-স্কেল ও শতভাগ উৎসব ভাতা চান এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

সংগৃহীত ছবি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবিলম্বে বদলি, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নিজ জেলা বা এলাকার বাইরে চাকরি করার কারণে অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন। স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মা-বাবাকে রেখে শত শত কিলোমিটার দূরে চাকরি করতে হচ্ছে তাদের। বদলি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি শিক্ষকদের মানবিক ও পারিবারিক প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বদলির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের ভোগান্তি নিরসনে আর কোনো দীর্ঘসূত্রতা না করে অবিলম্বে বদলির আদেশ জারি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বড় একটি অংশ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। অথচ একই শিক্ষাগত যোগ্যতা, দায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, শিক্ষকদের কর্মসূচি ঘোষণা এবং গত ৩১ অক্টোবর দেশের শতাধিক জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতার অর্থ বরাদ্দ চেয়ে এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানোর দাবি জানান। তার ভাষ্য, শুধু উদ্যোগ গ্রহণ নয়, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
উৎসব ভাতার বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক সারা বছর শিক্ষার্থীদের মানুষ করার দায়িত্ব পালন করেন। অথচ ঈদের মতো ধর্মীয় ও পারিবারিক আনন্দের সময়েও তারা প্রাপ্য উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকেন। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা দেওয়া হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বৈষম্যমূলক। আগামী ঈদুল ফিতর থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের সুস্পষ্ট ঘোষণা ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে বদলি নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন ও বদলির আদেশ জারি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা কার্যকর করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে তিন দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দ্বিতীয় দাবিটি সরকার মেনে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় এবং রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় চলমান শ্রমিক আন্দোলনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মসূচির ধরন ও স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানের পরিবর্তে ইনডোর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তবে এটিকে কর্মসূচি স্থগিত করা নয় বলে উল্লেখ করেন জোটের নেতারা। তারা জানান, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলে নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশব্যাপী কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।




