৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধাবঞ্চিত
- বরিশালের ৪ সরকারি কলেজ

সংগৃহীত ছবি
বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত চার সরকারি কলেজে প্রায় ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮০০টি। অর্থাৎ এসব কলেজের ৯৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীই আবাসন সুবিধার বাইরে। বাধ্য হয়ে তাদের বড় একটি অংশ পড়াশোনা করছেন মেস বা ভাড়া বাসায় থেকে। আর বাড়ি থেকে দূরে থাকা সম্ভব না হলে অনেকে নিয়মিত ক্লাস না করে শুধু অংশ নিচ্ছেন পরীক্ষায়। এতে কমছে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিশেষ করে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে আবাসন সংকটের প্রভাব আরও বেশি।
বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০টি। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় এই আসন একেবারেই অপ্রতুল। কলেজে নতুন বিভাগ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। কিন্তু গত ৩৭ বছরে নির্মিত হয়নি নতুন কোনো আবাসিক হল। বর্তমানে ছয়টি হলে আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশই জরাজীর্ণ। অনেক হলে শিক্ষার্থী থাকছেন আসনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু রয়েছে ২২টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং ২১টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নগরীর বিভিন্ন মেসে থেকে পড়াশোনা করেন। কলেজের নিজস্ব সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও সমাধান হয়নি আবাসন সংকটের।
আবাসন সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র সরকারি বরিশাল কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক, বিএ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও তাদের জন্য নেই কোনো আবাসিক ব্যবস্থা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে মেস কিংবা ভাড়া বাসায়। বিশেষ করে গ্রামের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাড়তি ব্যয় উচ্চশিক্ষার পথকে করেছে আরও কঠিন।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের পরিস্থিতি প্রায় একই। উচ্চমাধ্যমিক, বিএ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে কলেজটিতে অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী। বিপরীতে আবাসিক সুবিধা রয়েছে মাত্র ১০০ জন ছাত্রের। ফলে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক, বিএ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার ছাত্রী অধ্যয়নরত। তাদের জন্য আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ৫০০টি। ফলে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ছাত্রী আবাসন সুবিধার বাইরে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন গুরুত্বপূর্ণ হলেও চাহিদার তুলনায় আসনসংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি আবাসন ব্যবস্থা। বরং বিদ্যমান হলগুলোর বেশিরভাগই হয়ে পড়েছে জরাজীর্ণ। ফলে উচ্চশিক্ষা নিতে এসে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের বহন করতে হচ্ছে বাড়তি অর্থের চাপ।
ব্রজমোহন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলছিলেন, আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল না। বর্তমানে ৬০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। তা না হলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। ফলে নিয়মিত ক্লাস করতে বরিশালের বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের শহরে থাকা অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। কিন্তু হলে পর্যাপ্ত আসন নেই। আবার অনেক শিক্ষার্থীর মেসে থাকার সামর্থ্যও নেই। বিদ্যমান হলগুলোর অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীরা এসব হলে থাকছেন।
আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অত্যন্ত কম উল্লেখ করে সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিনের ভাষ্য, কলেজে ছেলে শিক্ষার্থীর তুলনায় মেয়ে শিক্ষার্থী বেশি। তাই ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত একটি আবাসিক হল নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।
ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কাজী জাবের আহমেদ জানালেন, বিদ্যমান হলগুলোর অবস্থাও ভঙ্গুর। হলগুলো সংস্কারের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। পাশাপাশি আবাসন সংকট নিরসনের জন্যও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
দ্রুত নতুন আবাসিক হল নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান হলগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করার দাবি শিক্ষার্থীদের। তাদের মতে, এসব সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বরিশালের সরকারি কলেজগুলোয় আবাসন সংকট।



