শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সর্তকবার্তা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শিক্ষার্থীদের নাম, পিতা-মাতার নাম ও জন্মতারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তনের আবেদনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
গতকাল রবিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এম কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নাম, পিতা-মাতার নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা, কর্মজীবন ও সরকারি নথিপত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি নির্দেশনা জানিয়ে বলা হয়, শিক্ষার্থী ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের সময় জন্মনিবন্ধন সনদসহ অন্যান্য প্রামাণিক দলিল যথাযথভাবে যাচাই না করে কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ বা বোর্ডে পাঠানো যাবে না। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্য সংরক্ষণ এবং বোর্ডে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এতে অভিভাবকদের বলা হয়, সন্তানের বয়স কমানো বা বাড়ানো, নিজের নাম কিংবা পিতা-মাতার নাম পরিবর্তন অথবা অন্য কোনো সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান করবেন না। একই সঙ্গে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে পরবর্তীতে তা সংশোধন করতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া, সময় এবং বিভিন্ন প্রামাণিক দলিলের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুরু থেকেই সন্তানের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে জানানো হয়, রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় নিজের নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নামসহ সব তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে সঠিকভাবে পূরণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো তথ্য ভুল থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ প্রকাশের পর তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি জটিল হতে পারে। বিশেষ করে নাম, পিতা-মাতার নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তন কোনো স্বাভাবিক বা নিয়মিত বিষয় নয়। এসব সংশোধনের আবেদন যথাযথ কারণ ও প্রামাণিক দলিলের ভিত্তিতে হতে হবে।
সবশেষে তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা পরিহার করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।







