খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
শ্রেণিকক্ষ সংকট সমাধান না করে নতুন ডিসিপ্লিন চালুর ঘোষণা ভিসির

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) বিদ্যমান ক্লাসরুম সঙ্কটের মধ্যেও নতুন আরও ১৬টি ডিসিপ্লিন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। একদিকে সীমিত সংখ্যক ক্লাসরুমে চলছে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পাঠদান, অন্যদিকে নতুন ডিসিপ্লিন চালুর পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম এই ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করেই নতুন ডিসিপ্লিন চালুর ঘোষণায় সমালোচনা শুরু করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯টি ডিসিপ্লিনে মোট ক্লাসরুম সংখ্যা ৯৮টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। এর মধ্যে ১টি ডিসিপ্লিনে ১টি করে, ৬টি ডিসিপ্লিনে ২টি করে, ৯টি ডিসিপ্লিনে ৩টি করে, ৪টি ডিসিপ্লিনে ৪টি করে, ৪টি ডিসিপ্লিনে ৫টি করে, ১টি ডিসিপ্লিনে ৬টি এবং সর্বোচ্চ ১টি ডিসিপ্লিনে ৭টি ক্লাসরুম রয়েছে।
এমন ঘোষণার সমালোচনা করে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাইয়ান ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার প্রায় এক দশক পরও তাদের ডিসিপ্লিনে নিজস্ব পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষসহ মৌলিক অবকাঠামো নেই; এখনো অন্য ডিসিপ্লিনের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ ভাগাভাগি করে ক্লাস করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান ডিসিপ্লিনগুলোতেই যেখানে শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো সংকট রয়েছে, সেখানে নতুন ১৬টি ডিসিপ্লিন চালু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে এবং মানসম্মত শিক্ষা-গবেষণা ব্যাহত হবে। তাই নতুন ডিসিপ্লিন চালুর আগে বিদ্যমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, নতুন করে ১৬টি ডিসিপ্লিন চালু করা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ, এটি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের বিষয় নয়। নতুন ডিসিপ্লিন চালুর ক্ষেত্রে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, পরিধি, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। দুই বছর আগে ভাষা শিক্ষা চালুর অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো সেটির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাই প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও অবকাঠামো নিশ্চিত হওয়ার পর ভবিষ্যতে নতুন ডিসিপ্লিন চালু হবে কিনা সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে শ্রেণিকক্ষ সংকটের প্রতিবাদে ২০১৫ সালে চালু হওয়া মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। এছাড়াও চারুকলা স্কুলের স্থায়ী ভবন না থাকায় সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।





